এসিড-ক্ষার সমতা

From Notun boi
Jump to: navigation, search

সূচিপত্র


রসায়নের ধারণা
পদার্থের অবস্থা
পদার্থের গঠন
পর্যায় সারণি
রাসায়নিক বন্ধন
মোলের ধারণা ও রাসায়নিক গণনা
রাসায়নিক বিক্রিয়া SSC
রসায়ন ও শক্তি
এসিড-ক্ষার সমতা
খনিজ সম্পদ ধাতু-অধাতু
খনিজ সম্পদ-জীবাশ্ম
আমাদের জীবনে রসায়ন



কৃষিক্ষেত্রে মাটি পরিচর্যায়: বিভিন্ন এলাকার মাটি বিভিন্ন প্রকার। কোনো কোনো এলাকার মাটির এসিডিটি অত্যধিক বা ঢ়ঐ মান কম হওয়ায় ভালো ফসল জন্মায় না। এই মাটিতে চুন যোগ করলে মাটির এসিডিটি হ্রাস পায়। চুন ক্ষারজাতীয় পদার্থ, এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম অক্সাইড। চুন মাটির অতিরিক্ত এসিড প্রশমিত করে ফলে মাটির ঢ়ঐ মান বৃদ্ধি পায়। আবার মাটি অতিরিক্ত ক্ষারীয় হলে অর্থাৎ ঢ়ঐ মান খুব বেশি হলে এতে অ্যামোনিয়াম সালফেট যোগ করা হয়। এসিডধর্মী অ্যামোনিয়াম সালফেট অতিরিক্ত ক্ষারকে প্রশমিত করে মাটির ঢ়ঐ মান হ্রাস করে। লবণ: ইতোমধ্যেই তুমি লবণ সম্পর্কে জেনেছ। এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়। লবণের একটি অংশ এসিড থেকে এবং অপর অংশ ক্ষার থেকে আসে। এ জন্য প্রতিটি লবণে একটি অ¤ -ীয় মূলক ও একটি ক্ষারীয় মূলক থাকে। সাধারণত লবণসমূহ প্রশম বা নিরপেক্ষ। সমান তীব্রতার এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণ প্রশম তবে তীব্র এসিড ও দুর্বল ক্ষারের লবণ এসিডিক (ঋবঈষ৩) আবার দুর্বল এসিড ও তীব্র ক্ষারের লবণ ক্ষারীয় (ঘধ২ঈঙ৩)। লবণসমূহ জলীয় দ্রবণে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নে বিশি -ষ্ট হয়। তবে কোনো কোনো লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয় না। এসিড ও ক্ষারধর্মী লবণ বিক্রিয়া করে প্রশম লবণ উৎপন্ন করে। ২ঋবঈষ ৩(ধয়) + ৩ঘধ ২ঈঙ৩(ধয়) ৬ঘধঈষ(ধয়) + ৩ঈঙ ২(ম) + ঋব ২ঙ৩(ং) ৯.১৪ এসিডবৃষ্টি সাধারণত বৃষ্টির পানি কিছুটা এসিডিক। এর ঢ়ঐ মান ৫.৬, কারণ বৃষ্টির পানিতে কার্বন -ডাই -অ ক্সাইড গ্যাস ও নাইট্রোজেন -ডাই-অ ক্সাইড গ্যাস দ্রবীভূত থাকে। জীবজগতের সকল সদস্য শ্বাসক্রিয়ার সময় বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই - অক্সাইড নিঃসরণ করে। যে কোনো অগ্নিকাণ্ড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্রকৃতিক ভাবে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাইঅক্সাইড জমা হয়। ইটভাটা, কলকারখানা ও গাড়ির ধোঁয়া পরিবেশে কার্বন -ডাই -অ ক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ করে। বজ্রপাতের সময় বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন-ডাই -অ ক্সাইড উৎপন্ন হয়। অন্তঃদহন ইঞ্জিনে পেট্রোলিয়াম পোড়ানোর সময়েও নাইট্রোজেন -ডাই-অ ক্সাইড উৎপন্ন হয় এবং তা বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হয়। কার্বন -ডাই -অ ক্সাইড ও নাইট্রোজেন-ডাই-অ ক্সাইড বাতাসে উপস্থিত পানির সাথে বিক্রিয়ায় এসিড উৎপন্ন করে। ঈঙ ২(ম) + ঐ২ঙ(ষ) ঐ২ঈঙ৩(ধয়) ২ঘঙ ২(ম) + ঐ২ঙ(ষ) ঐঘঙ ২(ধয়) + ঐঘঙ ৩(ধয়) নাইট্রাস এসিড অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী । এটি বাতাসের অক্সিজেনের দ্বারা জারিত হয়ে নাইট্রিক এসিডে পরিণত হয়। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় সালফার -ডাই -অ ক্সাইড, নাইট্রিক অক্সাইড উৎপন্ন হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইটভাটা, কলকারখানার জ্বালানি কয়লা ও পেট্রোলিয়াম সালফার/নাইট্রেট যুক্ত হলে বায়ুমণ্ডলে সালফার -ডাই -অ ক্সাইড/নাইট্রিক অক্সাইড বিমুক্ত হয়। সালফার -ডাই-অ ক্সাইড বায়ুমণ্ডলের পানির সাথে বিক্রিয়ায় সালফিউরাস এসিড উৎপন্ন করে। সালফার -ডাই -অ ক্সাইড বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ও ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে সালফার -ট ্রাই -অ ক্সাইড উৎপন্ন করে। সালফার -ট ্রাই -অ ক্সাইড বায়ুমণ্ডলের পানির সাথে বিক্রিয়ায় সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে। ঝঙ ২(ম) + ঐ২ঙ(ষ) ঐ২ঝঙ৩(ধয়) ঝঙ ৩(ম) + ঐ২ঙ(ষ) ঐ২ঝঙ৪(ধয়) ১৪৬ রসায়ন উপর্যুক্ত এসিডগুলো বৃষ্টির পানির সাথে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়। এসিডবৃষ্টির ফলে জলাশয় ও মাটির ঢ়ঐ মান ৪ বা ৪ -এর চেয়ে কমে যায়। অর্থাৎ মাটি ও পানি এসিডিক হয়ে যায়। এতে জীববৈচিত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বহু জীব বিলুপ্ত হয়। ১. শিক্ষার্থীর কাজ ক.পৃথকভাবে বৃষ্টির শু রুতে ও শেষে পানি সংগ্রহ কর। খ. ঢ়ঐ পেপার ব্যবহার করে এই পানির ঢ়ঐ মান নির্ণয় কর। গ.পরপর কয়েক দিন প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি কর। ঘ . তোমার মতামতসহ একটি রিপোর্ট তৈরি করে শিক্ষকের নিকট জমা দাও। ২. শিক্ষার্থীর কাজ এসিড বৃষ্টির উৎস বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি এলাকার নাম লিখ। ৩. শিক্ষার্থীর কাজ উপর্যুক্ত পাঠ বিবেচনায় নিয়ে এসিডবৃষ্টি প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন কর। (উলে-খ্য সালফারমুক্ত পেট্রোলিয়াম ও কয়লা পাওয়া যায়) ৯.১৫ পানি শিক্ষার্থীর কাজ: কোথায় কোথায় পানি পাওয়া যায়? [সাগর, পাহাড়, আকাশ, পাতাল, নদী-নালা সকল জায়গা ভাবনায় নি বে।] এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কীভাবে পানি স্থানান্তরিত হয়? তুমি পানি পান কর, উদ্ভিদ কীভাবে পানি পায়? তোমার শরীরে ঘাম হয়, উদ্ভিদ কি অনু রূপভাবে পানি ত্যাগ করে? উপর্যুক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে পৃথিবীর পানির আবর্তনের একটি চক্র অংকন কর। পৃথিবীতে মোট পানির পরিমাণের পরিবর্তন সম্পর্কে তোমার মতামত দাও। পানিচক্রের একটি উলে -খযোগ্য অংশে পানি পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই প্রবাহ চলাকালে পানি মাটিতে উপস্থিত বিভিন্ন খনিজ লবণের সংস্পর্শে আসে। পানিতে লবণ দ্রবীভূত হয়। বৃষ্টির পানিতে উপস্থিত কার্বনিক এসিড চুনাপাথর; ঈধঈঙ৩, ড লোমাইট (ঈধঈঙ৩.গমঈঙ৩) সমৃদ্ধ শিলার উপর দিয়ে গড়িয়ে যাওয়ার সময় ধীরে ধীরে বিক্রিয়া করে ও এদের দ্রবীভূত করে। ঐ ২ঙ(ষ) + ঈঙ২(ম) ঐ২ঈঙ৩(ধয়) ঈধঈঙ ৩(ং) + ঐ২ঈঙ৩(ধয়) ঈধ(ঐঈঙ৩)২(ধয়) গমঈঙ৩(ং) + ঐ২ঈঙ৩(ধয়) গম(ঐঈঙ৩)২(ধয়) কোনো কোনো শিলাতে জিপসাম (ঈধঝঙ৪.২ঐ২ঙ) বা অনার্দ্র ঈধঝঙ৪ থাকে। এগুলো পানিতে স্বল্পমাত্রায় দ্রবণীয়। এ উপাদানগুলো পানিতে উপস্থিত থাকলে পানি খর হয়। আয়রন আয়নও খর পানির একটি উপাদান। রসায়ন ১৪৭ পানিতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম আয়ন সাবানের সাথে নি¤œরূপ বিক্রিয়া করে। জ-ঈঙঙঘধ + ঐ ২ঙ জ-ঈঙঙ- + ঘধ+ সাবান স্টিয়ারেট আয়ন ২জ-ঈঙঙ- + ঈধ২+ (জ-ঈঙঙ)২ঈধ স্টি য়ারেট আয়ন অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম স্টি য়ারেট সাবানের সোডিয়াম আয়ন দ্রবণীয় সোডিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন করে। সোডিয়ামের স্থলে সাবানে পটাসিয়াম থাকলেও সাবান একই বিক্রিয়া দেয়। খর পানির ম্যাগনেসিয়াম বা আয়রন সাবানের সাথে অনুরূপ বিক্রিয়া করে। ফলে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন ধাতুর বাই -কাবর্ নেট, ক্লোরাইড ও সালফেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে পানিতে সাবানের ফেনা উৎপন্ন হয় না। পানিতে ধাতুসমূহের বাই -কাবর্ নেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে পানির খরতা অস্থায়ী ধরনের। পানিকে উত্তাপে ফুটালে পানির অস্থায়ী খরতা দূর হয়। অপরপক্ষে পানিতে ধাতুসমূহের ক্লোরাইড বা সালফেট লবণ পানিতে দ্রবীভূত থাকলে পানির খরতা সহজে দূরীভূত করা যায় না। পানির স্থায়ী খরতা দূর করার কয়েকটি পদ্ধতি হলো: ১. সোডা প দ্ধতি ২. পারমুটিট প দ্ধতি ৩. আয়ন বিনিময় রেজিন প দ্ধতি ইত্যাদি মৃদু পানিতে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন আয়ন থাকে না। ফলে মৃদু পানিতে সাবানের প্রচুর ফেনা হয়। সাধারণত বদ্ধ জলাশয় যেমন, পুকুর, ডোবার পানি মৃদু হয়। বৃষ্টির পানি খুব ভালো মৃদু পানি। মৃদু পানিতে তাপ দিলে কোনো তলানি জমে না। শিক্ষার্থীর কাজ ক্স খর পানি ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধার তুলনা কর। ইঙ্গিত অসুবিধা : কাপড়কাচা - সাবা নের ফেনা উৎপন্ন হয় না ও তলানি পড়ে। বয়লার/গরম পানির পাইপ ১.তাপ দিলে তলানি পড়ে; ২. পু রুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় তাপ কম/বেশি প্রয়োজন; ৩. পু রুত্বের পরিবর্তনের কারণে বয়লার বডি র সম্প্রসারণ। সুবিধা : দাঁত ও হাড় - খর পানির উপাদান। ক্স শিল্পক্ষেত্রে খর পানি ব্যবহারে ঝুঁকি ও সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি বিশে -ষণ কর। ক্স পুকুর, টিউবওয়েল এরূপ অন্যান্য কয়েকটি উৎস থেকে পানি সংগ্রহ কর। অতঃপর এই পানিতে সাবান ব্যবহার করে হাত ধুয়ে উৎপন্ন ফেনার পরিমাণের ভিত্তিতে খর পানি ও মৃদু পানি চিি হ্নত কর। ৯.১৬ পানি দূষণ বর্তমানে বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষ টিউবওয়েলের পানি পান করে। শহর এলাকায় সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা ভূগর্ভস্থ পানি তুলে বা নদীর পানি পরিশোধন করে পানীয় জল হিসেবে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করে। পাইপলাইনে ত্র“টির কারণে সরবরাহ করা পানিতে ময়লা ও নানা রোগজীবাণু থাকে। শহরের লোকেরা এই পানি ভালোমতো ফুটিয়ে বা উন্নতমান ফিল্টারের সাহায্যে ময়লা ও জীবাণুমুক্ত করে পান করে। জ = ঈহঐ২হ+১, যেখানে হ = ১২-১৮ ১৪৮ রসায়ন বাংলাদেশে নদী, খাল -বিল, পুকুর ইত ্যাদি জলাশয়ের পানি নানাভাবে দূষিত হচ্ছে। গৃহস্থালি বর্জ্য ও মলমূত্র বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে এই সকল জলাশয়ে পড়ছে। হাসপাতাল-বজর্ ্য ও রোগির কাপড়- চোপড় ধোয়ার মাধ্যমে বা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে পানি দূষিত হচ্ছে। ত্র“টিপূর্ণ নৌযানের তেল চুইয়ে পানি দূষিত হচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত সার ও কীটনাশক বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে মুক্ত জলাশয়ে পড়ছে। আমাদের দেশে শিল্প-কারখানা গুলো থেকে কোনোরকম প্রক্রিয়াকরণ ছাড়াই শিল্প বর্জ্য জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম ইত্যাদি দূষক পদার্থের অ ন্তর্ভুক্ত। ভারি ধাতুসমূহ মানব দেহে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। বর্জ্যরে সালফিউরিক এসিড পানির ঢ়ঐ মান হ্রাস করে। ফলে জলজ জীবের বংশবিস্ত ার কমতে থাকে। পানি ময়লা হয় ও দুর্গন্ধ ছড়ায়। মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূষক পদার্থ ভূ-গভর্ স্থ পানি ও ভূ -উপরিত লের পানি দূষিত হচ্ছে। যেমন, অগভীর নলকূপের সাহায্যে অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে এবং অতিরিক্ত খননের ফলে ভূ-গভর্ স্থ পানিতে আর্সেনিক দূষণ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকার টিউবওয়েলের পানিতে গ্রহণযোগ্য মাত্রার ( ০.০১ মি. গ্রা./লিটার) চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে আর্সেনিক পাওয়া যাচ্ছে। আর্সেনিক একটি বিষাক্ত পদার্থ। দীর্ঘদিন আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে মৃত্যুও হতে পারে। হাত -পা য়ে ক্ষত সৃষ্টির মাধ্যমে এই সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পায়। বর্তমানে জনস্ব াস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আর্সেনিক দূষণযুক্ত টিউবওয়েলের মুখে লাল রং করে দিয়েছে। আর্সেনিকযুক্ত পানিতে সেচ দেয়ার ফলে মুক্ত জলাশয়ের পানিও দূষিত হচ্ছে। খাদ্যচক্রে আর্সেনিক যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীর কাজ: ক্স তোমার এলাকার পানি দূষণের কারণ নির্ণয় করে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর। ৯.১৭ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের দেশে বড় শহরে বর্জ্য শোধনাগারের ব্যবস্থা আছে। যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। পয়ঃপ্রণালীর বর্জ্য এবং পচনশীল গৃহস্থালি বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস -বিদু ্যৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জৈবসার পাওয়া যায়। এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নিলে পরিবেশ ও পানি দূষণ হ্রাস পাবে। গ্রামাঞ্চলে খোলা পায়খানার পরিবর্তে রিং ল্যাট্রিন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ছোট ছোট বায়োগ্যাস প -ান্ট স্থাপন করে মানুষ ও পশুপাখির মলমূত্র ও পচনশীল গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস ও জৈবসার পাওয়া যাবে। যা তোমাদের জ্বালানিসংকট হ্রাস ও কৃষিক্ষেত্রে সারের খরচ কমাতে সাহায্য করবে। বায়োগ্যাস প -ান্ট সম্ভব না হলে বাড়ির এক কোনায় গর্ত করে তাতে আবর্জনা ফেলবে এবং পচে গেলে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করবে। প্রত্যেক শিল্পকারখোনায় বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপন বাধ্যতামূলক। কোনো অবস্থাতেই শিল্পকারখানার বর্জ্য সরাসরি উন্মুক্ত জলাশয়ে ফেলা যাবে না। এ বিষয়ে তোমরা সচেতন থাকবে। পরিবেশ অধিদপ্তরকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে। মনে রাখবে বাংলাদেশের মতো দেশে সংগঠিত জনসচেতনতা ও জনমতই পানি দূষণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ৯.১৮ পানির বিশুদ্ধতার পরীক্ষা বর্ণ ও গন্ধ পর্যবেক্ষণ: বিশুদ্ধ পানি বর্ণ, গন্ধহীন স্ব চ্ছতরল পদার্থ। এতে সামান্য পরিমাণ খনিজ লবণ দ্রবীভূত থাকে। কোনো খনিজ লবণ অধিকমাত্রায় দ্রবীভূত থাকলে পানি দূষিত বলা যায়। সাধারণ পর্যবেক্ষণে পানিতে গন্ধ পাওয়া গেলে বা ঘোলাটে দেখা গেলে অথবা ফিল্টার পেপারে ছাঁকা হলে তলানি বা অবশেষ পাওয়া গেলে পানি দূষিত। পানির তাপমাত্রা: গ্রীষ্মকালে পানির তাপমাত্রা ৩০-৩৫০সে কখনো তা ৪০০সে হতে পারে। কোনো কারণে পানির রসায়ন ১৪৯ তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি বেশি হলে তাপদূষণ হয়েছে বলা যায়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের য ন্ত্রপাতি ঠ াণ্ড া করার পানি বা বয়লারের গরম পানি সরাসরি জলাশয়ে মুক্ত করা হলে পানির তাপদূষণ হয়। থার্মোমিটার দিয়ে পানির তাপমাত্রা নির্ণয় করে তাপ দূষণ শনাক্ত করা যায়। পানির ঢ়ঐ মান: পানির ঢ়ঐ মান ৪.৫ থেকে কম এবং ৯.৫ অপেক্ষা বেশি হলে তা জীবের জন্য প্রাণনাশক। ঢ়ঐ পেপার বা ঢ়ঐ মিটার ব্যবহার করে ঢ়ঐ মান নির্ণয় করা যায়। বিওডি (ইঙউ; ইরড়ষড়মরপধষ ঙীুমবহ উবসধহফ): ইঙউ মানে জৈব রাসায়নিক অক্সিজেনের চাহিদা। কোনো পানিতে (ইঙউ) মান বেশি হলে ঐ পানি দূষিত। বায়ুর উপস্থিতিতে পানিতে উপস্থিত সকল জৈব বস্তুকে ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেন প্রয়োজন তা বিওডি। একটি জলাশয়ের পানিতে কী পরিমাণ অক্সিজেন আছে তা মেপে নিতে হবে। অতপর ১০০ মি.লি.আয়তনের একটি বোতল ঐ জলাশয়ের পানি দিয়ে এমনভাবে পূর্ণ করে বোতলের মুখ বন্ধ করা হয় যাতে বোতলে কোনো বায়ু না থাকে। বোতলটিকে ২০০সে তাপমাত্রায় ২৪ ঘণ্ট া রেখে দিয়ে এর অক্সিজেন পরিমাপ করা হয়। এই দুই মানের পার্থক্য থেকে (ইঙউ) মান জানা যায়। সিওডি (ঈঙউ; ঈযবসরপধষ ড়ীুমবহ উবসধহফ): ঈঙউ মানে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। পানিতে মোট কতটুকু রাসানিক দ্রব্য আছে তাহা বুঝানোর জন্য (ঈঙউ) মান ব্যবহার করা হয়। বিশেষভাবে নদী-নালা-ঝি লের পানিতে জৈব দূষক (ঙৎমধহরপ চড়ঃঁঃধহঃং) -এর মাত্রা মেপে পানির গুণাগুণ বিশে-ষণ করা হয়। পানির ঈঙউ মান বেশি হলে পানিদূষণের মাত্রা বেশি হয়। ইঙউ ও ঈঙউ কে মিলিগ্রাম/লিটার বা পিপিএম (ঢ়ঢ়স: চধৎঃং ঢ়বৎ সরষষরড়হ) এককে প্রকাশ করা হয়। ১ ঢ়ঢ়স = প্রতি লিটার দ্রবণে ১ মিলিগ্রাম দ্রব ৯.১৯ পানি বিশুদ্ধকরণ ক্লোরিনেশন: পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ক্লোরিনেশন। পানিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বি -চিং পাউড ার যোগ করলে উৎপন্ন ক্লোরিন জীবাণুকে জারিত করে মেরে ফেলে। ঈধ(ঙঈষ)ঈষ + ঐ২ঙ ঈধ(ঙঐ)২ + ২[ঈষ] জীবাণু + ২[ঈষ] জারিত জীবাণু পানিতে বি -চিং পাউডার যোগ করার পর ছেঁকে নিলে পানি পানযোগ্য হয়। ফুটানো: পানিকে অনেক্ষণ (১৫-২০ মিনিট) ধরে ফুটালে জীবাণুমুক্ত হয়। উলে -খ্য আর্সেনিকযুক্ত পানিকে ফুটালে তা আরো ক্ষতিকর হবে। থিতানো: এক বালতি পানিতে ১ চামচ ফিটকিরি (ক২ঝঙ৪অষ২(ঝঙ৪)৩.২৪ঐ২ঙ) গুঁড়া যোগ করে আধাঘ ণ্ট া রেখে দিলে পানির সকল অপদ্রব্য থিতিয়ে বালতির তলায় জমা হয়। এভাবে পানি থেকে অদ্রবণীয় দূষক দূর করা যায়। ছাঁকন: বর্তমানে বাজারে জীবাণু, আর্সেনিক ও অন্যান্য দূষণ মুক্ত করতে সক্ষম ফিল্টার পাওয়া যায়। এই ফিল্টার দিয়ে ছেঁকে নিয়ে পানযোগ্য বিশু দ্ধ পানি পাওয়া যায়। ১৫০ রসায়ন অ্যাসাইনমেন্ট: ক্স তোমার নিজের ঢ়ঐ পেপার তৈরি কর। রঙিন শাক-সবজি যেমন, লাল শাক, লাল বাঁধাকপি, বিট ইত্যাদি বা রঙিন ফুল যেমন, রক্তজবা, লাল গোলাপ, ডালিয়া এর যে কোনো একটি নাও। ছোট ছোট করে কাটো। হালকা আঁচে ভাপে সিদ্ধ কর। যে রঙিন নির্যাস পাওয়া যাবে তাতে এক টুকরা ফিল্টার পেপার ডুবাও। বাতাসে রেখে শুকিয়ে নাও। অতপর চিকন চিকন করে কেটে নাও। তৈরি হলো তোমার নিজের ঢ়ঐ পেপার। এই পেপার জানা ঢ়ঐ মান দ্রবণে ডুবিয়ে ঢ়ঐ পরিসরের কালার চার্ট তৈরি কর। এ ভাবে তোমার পক্ষে সম্ভব সবকয়টি সবজি বা ফুল দিয়ে ঢ়ঐ পেপার তৈরি কর। সবচেয়ে উৎকৃষ্টটি ব্যবহারের জন্য নির্বাচন কর। অনুশীলনী বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: ১. চুনাপাথরের উপর লঘু সালফিউরিক এসিড যোগ করলে নিচের কোন যৌগটি উৎপন্ন হবে? ক. ঈঙ ২ খ. ঐ২ গ. ঙ ২ ঘ. ঝঙ২ ২. নিচের কোনটি ক্ষার? ক. কোমল পানীয় খ. লেবুর রস গ. সিরকা ঘ. কাপড়কাচা সোডা ৩. নিচের কোনটির উপস্থিতির জন্য অ্যামোনিয়া গ্যাসের জলীয় দ্রবণ ক্ষার? ক. ঘঐ ৪ + আয়ন খ. ঙঐ- আয়ন গ. ঘঐ ৩ ঘ. ঐ২ঙ ৪. একটি অজানা ধাতুর সাথে নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় বর্ণহীন দ্রবণ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন দ্রবণটিতে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড দ্রবণ যোগ করলে সাদা বর্ণের অধঃক্ষেপ উৎপন্ন হয় কিন্তু অধিক পরিমাণ সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড দ্রবণ যোগ করলে তা-ও দ্রবীভূত হয়ে যায়। ধাতুটিক. কপার খ. আয়রন গ. লেড ঘ. জিংক ৫. একটি ইথানয়িক এসিড দ্রবণের ঢ়ঐ -এর মান ৪, ঢ়ঐ -এর মান বৃদ্ধি করার জন্য এতে যোগ করতে হবেÑ র. অ্যামোনিয়া দ্রবণ রর. ঘন হাইড্রোক্লোরিক এসিড ররর. কঠিন ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট রসায়ন ১৫১ নিচের কোনটি সঠিক? ক. র ও রর খ. র ও ররর গ. রর ও ররর ঘ. র, রর ও ররর সৃজনশীল প্রশ্ন: ১. ক. ঘঙ ২ গ্যাসের বর্ণ কী? খ. চুনের পানির ঢ়ঐ -এর মান ৭ থেকে বেশি না কম হবে? ব্যাখ্যা কর। গ. ‘ঢ গ্যাসটির জলীয় দ্রবণের একটি রাসায়নিক ধর্ম ব্যাখ্যা কর। ’ ঘ . আয়রন লবণের জলীয় দ্রবণের মধ্যে ‘ঢ গ্যাস চালনা করলে কী ঘটবে? সমীকরণসহ লিখ। ’ ২. টেক্স টাইল মিল ও ডায়িং শিল্প, রং ও সালফিউরিক এসিডযুক্ত বর্জ্য সরাসরি নিকটস্থ জলাশয়ে ফেলছে। ফলে ঐ সকল জলাশয় জলজ প্রাণীর বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। ক. তেঁতুলে কোন এসিড থাকে? খ. উদ্দ ীপকের জলাশয়ের ঢ়ঐ মান সম্পর্কে তোমার ধারণা ব্যক্ত কর। গ. টেক্সটাইল মিল ও ডায়িং শিল্পের দূষণ নিয়š ণ প ¿ -ান্টে এসিড দূষণ নিয়š ণে যৌক্তিক পরামর্শ দাও। ¿ ঘ . টেক্সটাইল মিল ও ডায়িং শিল্পের আশেপাশে এসিডবৃষ্টির সম্ভাবনা বিক্রিয়াসহ বিশে -ষণ কর।


Share your opinion