খনিজ সম্পদ-জীবাশ্ম

From Notun boi
Jump to: navigation, search

সূচিপত্র


রসায়নের ধারণা
পদার্থের অবস্থা
পদার্থের গঠন
পর্যায় সারণি
রাসায়নিক বন্ধন
মোলের ধারণা ও রাসায়নিক গণনা
রাসায়নিক বিক্রিয়া SSC
রসায়ন ও শক্তি
এসিড-ক্ষার সমতা
খনিজ সম্পদ ধাতু-অধাতু
খনিজ সম্পদ-জীবাশ্ম
আমাদের জীবনে রসায়ন



৩. অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন (অ্যালকিন ও অ্যালকাইন): অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের কার্বন শিকলে অন্তত একটি দ্বি-বন্ধন অথবা ত্রি-বন্ধন থাকে এবং কার্বনের অবশিষ্ট যোজ্যতা হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ হয়। দ্বি-বন্ধন যুক্ত অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনকে অ্যালকিন এবং ত্রি-বন্ধন যুক্ত অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনকে অ্যালকাইন বলে। ক. অ্যালকিন (অষশবহব): অ্যালকিনের কার্বন শিকলে অন্তত দুটি কার্বন পরমাণুর মধ্যে দ্বি-বন্ধন থাকে এবং কার্বনের অবশিষ্ট যোজ্যতা হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ হয়। অ্যালকিন শ্রেণির ক্ষুদ্রতম ও সরল সদস্য ইথিন বা ইথিলিন (ঈঐ=ঈঐ)। অ্যালকিন প্রস্তুতি: অ্যালকিন শ্রেণির সামান্য যৌগ প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে ব্যবহৃত অধিকাংশ অ্যালকিন পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত উচ্চতর অ্যালকেনের প্রভাবকীয় বিযোজনের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। পেট্রোলিয়ামের আংশিক পাতনে প্রাপ্ত কেরোসিনের উপাদান ডোডেকেন (ঈ ১২ঐ২৬) কে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড ও ক্রোমিয়াম অক্সাইডের উপস্থিতিতে ৫০০ড়ঈ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে ক্ষুদ্র শিকল যুক্ত অ্যালকেন ও ইথিন উৎপন্ন হয়। ইথানলকে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের উপস্থিতিতে উত্তপ্ত করলে বা সালফিউরিক এসিড দ্বারা নিরুদিত করলে পানি অপসারিত হয়ে ইথিলিন বা ইথিন উৎপন্ন করে। অ্যালকিনের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম: অ্যালকেনের ন্যায় অ্যালকিনসমূহ দাহ্য এবং গ্যাসীয়, তরল ও কঠিন অবস্থায় থাকে। অ্যালকিনের তাৎপর্যপূর্ণ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেরকে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে ব্যবহার করা হয়। অ্যালকিন অণুতে কার্বন-কার্বন দ্বি-বন্ধন থাকায় এরা রাসায়নিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয়। কারণ দ্বি-বন্ধনের প্রথম বন্ধনটি শক্তিশালী হলেও দ্বিতীয় বন্ধনটি তুলনামূলক দুর্বল। দহন, সংযোজন এবং পলিমারকরণ অ্যালকিনের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিক্রিয়া। দহন: অ্যালকিন অতিরিক্ত অক্সিজেন বা বায়ুর সাথে বিক্রিয়া করে ঈঙ২(ম) ও ঐ২ঙ(ম) উৎপন্ন করে। এই বিক্রিয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। অ্যালকিন কম দাহ্য, কারণ অ্যালকিনে কার্বনের শতকরা পরিমাণ অ্যালকেনের তুলনায় কম। অ্যালকিনের সংযোজন: অ্যালকিন অণুতে দ্বি-বন্ধন থাকায় ইহা সহজে সংযোজন বা যুত বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এই বিক্রিয়ায় অ্যালকিনের কার্বন-কার্বন দ্বি-বন্ধন ভেঙে একক বন্ধনে পরিণত হয়। ১. হাইড্রোজেন সংযোজন: ধাতব প্রভাবকের (ঘর) উপস্থিতিতে ১৮০-২০০ড়ঈ তাপমাত্রায় অ্যালকিন হাইড্রোজেনের ঈ ১২ঐ২৬ ৫০০ ড়ঈ ঈ১০ঐ২২ + ঐ২ঈ ঈঐ২ ঈ ১২ঐ২৬ ৫০০ ড়ঈ ঈ৮ঐ১৬ + ঈ৪ঐ৮ + ঐ২ ঈঐ ৩ঈঐ২ঙঐ ঐ ২ঝঙ৪ -ঐ ২ঙ ঐ২ঈ ঈঐ২ ঈঐ ৩ঈঐ২ঙঐ অষ ২ঙ৩, -ঐ ২ঙ ∆ ঐ২ঈ ঈঐ২ ঈ২ঐ৪(ম) + ৩ঙ২(ম) → ২ঈঙ২(ম) + ২ঐ২ঙ(ম) + তাপশক্তি রসায়ন ১৭৯ সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকেন উৎপন্ন করে। একে প্রভাবকীয় হাইড্রোজেনেশন (ঈধঃধষুঃরপ যুফৎড়মবহবঃরড়হ) বলে। তরল উদ্ভিজ্জ্য তেলকে (যাতে একাধিক -ব ন্ধন থাকে) এই বিক্রিয়ার মাধ্যমে আংশিক সম্পৃক্ত করে মার্জারিনে (গধৎমধৎরহব) পরিণত করা হয়। মার্জারিন মাখন তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। ২. ব্রোমিন সংযোজন: অ্যালকিন কমলা -লাল ব র্ণের ব্রোমিন গ্যাস বা ব্রোমিন পানির সাথে বিক্রিয়ায় ১,২ - ডাইব্রোমোঅ্যালকেন উৎপন্ন করে। বিক্রিয়ার ফলে ব্রোমিনের বর্ণ বিনষ্ট হয়। এই বিক্রিয়ার মাধ্যমে অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনকে শনাক্ত করা হয়। ৩. অ্যালকিনের জারণ: অ্যালকিন যেমন, ইথিনকে লঘু জলীয় পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্বারা জারিত করলে ইথিলিন গ -াইকল উৎপন্ন হয়। এই বিক্রিয়ায় লঘু জলীয় পটাসিয়াম পার ম্যাঙ্গানেটের গোলাপী বা বেগুনি বর্ণ বিনষ্ট হয়। এই বিক্রিয়ার মাধ্যমে অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনকে শনাক্ত করা যায়। ৪. পানি সংযোজন: উচ্চ তাপ (৩০০ ড়ঈ), উচ্চ চাপ (৬০ বায়ুচাপ) ও ফসফরিক এসিড প্রভাবকের উপস্থিতিতে অ্যালকিন পানি বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকোহল উৎপন্ন করে। কোনো কোনো দেশে যেমন, ব্রাজিলে অ্যালকোহলকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে এবং সকল দেশে পেট্রোলিয়াম শিল্পে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাই এই বিক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিল্পক্ষেত্রে এ বিক্রিয়া লাভজনক নয় বলে শিল্পে এই বিক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয় না। পলিমারকরণ: উচ্চ তাপ (২০০ ড়ঈ) ও উচ্চ চাপে (১০০০ বায়ুচাপ) অসংখ্য অ্যালকিন অণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে বৃহৎ আকৃতির অণু গঠন করে। এই বিক্রিয়ায় উৎপন্ন বৃহৎ অণুকে পলিমার এবং বিক্রিয়াকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে। যে অসংখ্য বিক্রিয়ক অণু যুক্ত হয় তাদের প্রত্যেকটি অণুকে মনোমার বলে। সকল প -াস্টিক দ্রব্য ও কৃত্রিম তন্তু এই বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয়। ইথিলিন অণু থেকে প্রাপ্ত পলিমারকে পলিথিন বলে। খ. অ্যালকাইন (অষশুহব): অ্যালকাইনের কার্বন শিকলে অন্তত দুটি কার্বন পরমাণুর মধ্যে ত্রি -ব ন্ধন থাকে এবং কার্বনের অবশিষ্ট যোজ্যতা হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ হয়। অ্যালকাইন শ্রেণির ক্ষুদ্রতম ও সরল সদস্য ইথাইন বা অ্যাসিটিলিন (ঈঐ ঈঐ)। অ্যালকাইন প্রস্তুতি: প্রাকৃতিক গ্যাস বা মিথেনকে ১৫০০ ড়ঈ তাপমাত্রায় বায়ুর উপস্থিতিতে দহন করলে ইথাইন উৎপন্ন হয়। মিথেনের আংশিক দহন থেকে এই বিক্রিয়ার প্রয়োজনীয় তাপ পাওয়া যায়। বিক্রিয়ার সময় মিথেন অণুতে বন্ধন ঐ ঐ২ঈ ঈঐ২(ম) + ঐ২(ম) ১৮০-২০০ ঘর ড়ঈ ৩ঈ ঈঐ৩(ম) ঐ ২ঈ ঈঐ২(ম) + ইৎ২(ম) ঈঐ২ইৎ-ঈঐ২ইৎ(ষ) ঐ ২ঈ ঈঐ২(ম) + কগহঙ৪ (ধয়) ঈঐ২(ঙঐ)-ঈঐ২(ঙঐ)(ষ) ঐ ২ঙ ঐ ঐ২ঈ ঈঐ২(ম) ৩ঈ ঈঐ২ঙঐ(ষ) ৩০০ ড়ঈ, ৬০ ধঃস + ঐ ২ঙ(ম) ঐ ৩চঙ৪ ঐ ২ঈ ঈঐ২(ম) ২০০ ড়ঈ, ১০০০ ধঃস হ -ঈঐ ২-ঈঐ২- হ(ং) ১৮০ রসায়ন ভাঙা-গড়ার মাধ্যমে ইথাইন উৎপন্ন হয়। ২ঈঐ ৪(ম) + ৩/২ঙ২(ম) → + ৩ঐ২ঙ(ম) + তাপ (আংশিক দহন) ২ঈঐ ৪(ম) → + ৩ঐ২(ম) শিল্পক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম কার্বাইড থেকে ইথাইন গ্যাস প্রস্তুত করা হয়। ক্যালসিয়াম কার্বাইডে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি যোগ করলে ইথাইন বা অ্যাসিটিলিন গ্যাস উৎপন্ন হয়। অ্যালকাইনের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম : অ্যালকেন ও অ্যালকিনের ন্যায় অ্যালকাইনসমূহ গ্যাসীয়, তরল ও কঠিন অবস্থায় থাকে। দুই থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকাইন গ্যাসীয়, পাঁচ থেকে এগার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকাইন তরল এবং উচ্চতর অ্যালকাইন কঠিন অবস্থায় থাকে। অ্যালকাইন শ্রেণির যৌগও রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রতি অত্যন্ত সক্রিয়, তবে অ্যালকিনের তুলনায় সক্রিয়তা কিছুটা কম। অ্যালকাইন হাইড্রোজেন, ব্রোমিনের সাথে সংযোজন বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। অ্যালকিন হাইড্রোজেন, ব্রোমিনের সাথে সংযোজন বিক্রিয়ায় এক অণু (হাইড্রোজেন, ব্রোমিনের) যুক্ত হয়ে কার্বন-কার্বন একক বন্ধন বিশিষ্ট যৌগ উৎপন্ন করে। অপরদিকে অ্যালকাইন হাইড্রোজেন, ব্রোমিনের সাথে সংযোজন বিক্রিয়ায় প্রথমে এক অণু যুক্ত হয়ে কার্বন-কার্বন-বন্ধন বিশিষ্ট যৌগ এবং পরবর্তীতে অন্য এক অণু (হাইড্রোজেন, ব্রোমিনের) যুক্ত হয়ে একক বন্ধন বিশিষ্ট যৌগ উৎপন্ন করে। কাজ : নিচের বিক্রিয়াগুলোর প্রশ্নবোধক স্থান পূর্ণ কর। অসম্পৃক্ততার পরীক্ষা (ব্রোমিন পানি পরীক্ষা): ব্রোমিনকে জৈব দ্রাবকে বা পানিতে দ্রবীভূত করে লাল/বাদামি বর্ণের দ্রবণ প্রস্তুত করা হয়। সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের মধ্যে পৃথকভাবে কয়েকফোঁটা ব্রোমিন দ্রবণ যোগ করে ঝাঁকাতে হয়। সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন লাল/বাদামি বর্ণের ব্রোমিন দ্রবণের সাথে বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না এবং দ্রবণের লাল/বাদামি বর্ণের কোনো পরিবর্তন হয় না। অপরদিকে অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন (অ্যালকিন বা অ্যালকাইন) লাল/বাদামি বর্ণের ব্রোমিন দ্রবণের সাথে বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে কার্বন-কার্বন দ্বি-বন্ধনে অথবা ত্রি-বন্ধনে ব্রোমিন অণু যুক্ত হয়। ফলে ব্রোমিন দ্রবণের লাল/বাদামি বর্ণ বিনষ্ট হয়। বিক্রিয়ায় ব্রোমিন দ্রবণের বর্ণ পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের মধ্যে পার্থক্য করা হয়। ঈ ২ঐ৬(ম) + ইৎ২(দ্রবণ) → বিক্রিয়া হয় না (দ্রবণের বর্ণ পরিবর্তন হয় না) ঈ ২ঐ৪(ম) + ইৎ২(দ্রবণ) → ইৎঈঐ২-ঈঐ২ইৎ(ষ) (দ্রবণের বর্ণ পরিবর্তন হয়) ঈ ২ঐ২(ম) + ইৎ২(দ্রবণ) → ইৎ২ঈঐ-ঈঐইৎ২(ষ) (দ্রবণের বর্ণ পরিবর্তন হয়) ঈধঈ ২(ং) + ঐ২ঙ(ষ) ঐঈ ঈঐ(ম) ঐঈ ঈঐ (ম) ঐঈ ঈঐ (ম) ঐঈ ঈঐ ঐ ২ ? ঐ ২ ? ঐঈ ঈঐ ইৎ ২ ? ইৎ ২ ? রসায়ন ১৮১ একইভাবে পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের দ্রবণ ব্যবহার করে অসম্পৃক্ততার পরীক্ষা করা যায়। ১১.৫ পলিমার: প্রকৃতিতে আমরা দৈনন্দিন কাজে যে সকল দ্রব্যাদি ব্যবহার করি তার বেশির ভাগই পলিমার। দুই ধরনের পলিমার আছে। প্রাকৃতিক পলিমার ও কৃত্রিম পলিমার। প্রাকৃতিক পলিমারের মধ্যে তুলা, রাবার, ভাত, প্রোটিন এবং কৃত্রিম পলিমারের মধ্যে প -াস্টিক দ্রব্য, তোমার হাতের কলম, পলিএস্টার কাপড় ইত্যাদি। ক. পলিমারকরণ বিক্রিয়া একই পদার্থের অসংখ্য অণু বা একাধিক পদার্থের অসংখ্য অণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে বৃহৎ অণু গঠন করার প্রক্রিয়াকে পলিমারকরণ বলে। এই বিক্রিয়ায় উৎপন্ন বৃহৎ অণুকে পলিমার এবং বিক্রিয়ক অসংখ্য ক্ষুদ্র অণুর প্রত্যেকটিকে মনোমার বলে। -অ-অ-অ-অ-অ-অ-অ-অ- -অ-ই-অ-ই-অ-ই-অ-ই-অ-ইপলিমার যেখানে মনোমার = অ পলিমার যেখানে মনোমার = অ-ই একই বিক্রিয়কের অসংখ্য অণু যুক্ত হয়ে পলিমার গঠন করার প্রক্রিয়াকে যুত পলিমারকরণ (অফরঃরড়হ চড়ষুসবৎরংধঃরড়হ ) বলে। যুত পলিমারকরণে সাধারণত দ্বি -ব ন্ধন বিশিষ্ট অ্যালকিন অণু মনোমার হিসেবে বিক্রিয়া করে। যুত পলিমারকরণে অসংখ্য মনোমার অণু যুক্ত হওয়ার সময় কোনো প্রকার ক্ষুদ্র অণু অপসারিত হয় না। খ. পলিমারের শ্রেণিবিভাগ: উৎসের উপর ভিত্তি করে পলিমার দুই প্রকার: ১. প্রাকৃতিক পলিমার প্রাকৃতিকভাবে অনেক পলিমার উৎপন্ন হয়। যেমন, উদ্ভিদের সেলুলোজ ও স্টার্চ দুটোই পলিমার যা বহুসংখ্যক গ -ুকোজ অণু যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে। গ-ুকোজকে ম বা মষপ দ্বারা প্রকাশ করা হলে স্টার্চ ও সেলুলোজের গঠন - ম-ম-ম-ম-ম-ম-। দেখতে উভয়ের গঠন এক রকম হলেও তাদের বন্ধন গঠনের কৌশল ভিন্ন। এভাবে পর্যায়ক্রমে একাধিক গ -ুকোজ অণু যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকল উৎপন্ন করে। প্রাণিদেহে সঞ্চিত শর্করা, গ-াইকোজেনও গ-ুকোজের পলিমার। তোমার দেহের কোষ এবং কলা গঠন করে প্রোটিন। প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। ইনসুলিন নামক পলিমারে ২২ টি অ্যামাইনো এসিড থাকে। রাবার নামক গাছের কষ একটি প্রাকৃতিক পলিমার। আমাদের দেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও টাঙ্গাইল জেলায় রাবার চাষ হচ্ছে। প্রাকৃতিক রাবারের চেয়ে বহুগুণ বেশি প-াস্টিক শিল্প কারখানায় সংশে -ষণ করা হচ্ছে। ২. কৃত্রিম পলিমার বা প -াস্টিক শক্ত, হালকা, সস্তা এবং যে কোনো পছন্দসই রঙের পাওয়া যায়। প-াস্টিককে গলানো যায় এবং ছাচে ঢেলে যে কোন আকার দেওয়া যায়। প -াস্টিক শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ চষধংঃরশড়ং থেকে চষধংঃরশ ড়ং অর্থ হলো গলানো সম্ভব। অনেকেই পরিত্যক্ত বলপেনের প -াস্টিক অংশকে গলিয়ে পেপার ওয়েট তৈরি করেন। এটি করা বিপদজনক কারণ, প -াস্টিক দ্রব্যকে পোড়ালে বা উত্তাপে গলানো হলে অনেক বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়। খাবার রাখার পাত্র, মোড়ক, বলপেন, চেয়ার, টেবিল, গাড়ির যন্ত্রাংশ পানির ট্যাংক, গামলা, বালতি, মগ ইত্যাদি নানাবিধ সামগ্রী প্রস্তুত করার জন্য প -াস্টিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। ঐ হ ২ঈ ঈঐ ঢ ঢ ঢ=বিভিন্ন একযোজী মূলক। পলিমারকরণ হ, [ ঈঐ২ - ঈঐ ] ১৮২ রসায়ন সকল প -াস্টিক দ্রব্য পলিমার। রসায়নবিদগন পলিমার যৌগের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করার জন্য প -াস্টিক শব্দটি ব্যবহার করেন। অসংখ্য ছোট ছোট অণু একত্রে যুক্ত হয়ে পলিমার গঠিত হয়। এই ছোট অণুকে মনোমার বলা হয়। রাসায়নিক পদার্থ বিশেষত দ্বি -ব ন্ধন বিশিষ্ট অ্যালকিন, অ্যালডিহাইড, অ্যালকোহল, অ্যামিন, জৈব এসিডের পলিমারকরণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে প -াস্টিক প্রস্তুত করা হয়। প -াস্টিক ও তন্তু তৈরির জন্য এ সকল উপাদান পেট্রোলিয়াম থেকে পৃথক করা হয় অথবা পেট্রোলিয়াম উপাদান থেকে প্রস্তুত করা হয়। শিক্ষার্থীর কাজ: মনোমারের সংকেত থেকে যুত পলিমারের সংকেত লিখ। ঈঐ ২=ঈঐ-ঈঐ ৩, ঈঐ২=ঈঐঈষ, ঈঋ ২=ঈঋ ২ প্রোপিন ভিনাইলক্লোরাইড টেট্রাফ্লোরোইথিন পলিমার প্রস্তুতির প্রথম দিকে ২০০ ড়ঈ তাপমাত্রায়, ১২০০ বায়ুচাপে সামান্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ইথিলিনের পলিমার পলিথিন প্রস্তুত করা হয়। এই পলিথিনে অধিক পরিমাণে শাখাযুক্ত দীর্ঘ কার্বন শিকল থাকে, এতে পলিমারের ঘনত্ব ও গলনাংক কম এবং কোমল প্রকৃতির হয়। এই পলিথিনকে নিম্ন ঘনত্বের পলিথিন (খউচঊ;খ ড়ি উ বহংরঃু চড়ষুঊ ঃযবহব ) বলে। জার্মান রসায়নবিদ কার্ল জিগলার (ক ধৎষ ত রবমষবৎ ) প্রভাবকের উপস্থিতিতে অনেক কম তাপ ও চাপে (৬০ ড়ঈ, এক বায়ুচাপে) ইথিলিনের পলিমার পলিথিন প্রস্তুত করেন। এই পলিথিনে শাখার সংখ্যা কম থাকে, এতে পলিমারের ঘনত্ব, গলনাংক তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। সামান্য শাখা যুক্ত থাকায় পলিথিনের দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায়। একে উচ্চ ঘনত্বের পলিথিন (ঐউচঊ; ঐরময উবহংরঃু চড়ষু ঊঃযবহব ) বলে। একাধিক বিক্রিয়কের অসংখ্য অণু যুক্ত হয়ে পলিমার গঠন করার প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন পলিমারকরণ (ঈড়হফবহংধঃরড়হ চড়ষুসবৎরংধঃরড়হ ) বলে। ঘনীভবন পলিমারকরণে সাধারণত অ্যালডিহাইড, অ্যালকোহল, অ্যামিন ও জৈব এসিডের অণু মনোমার হিসেবে বিক্রিয়া করে। ঘনীভবন পলিমারকরণে অসংখ্য মনোমার অণু যুক্ত হওয়ার সময় পানি (ঐ২ঙ) কার্বন ডাইঅক্সাইডের (ঈঙ ২) ন্যায় ক্ষুদ্র অণু অপসারিত হয়। কোনো বিক্রিয়কে দুই প্রান্তে দুই ধরনের কার্যকরীমূলক থাকলে ঐ বিক্রিয়কের একাধিক অণু যুক্ত হয়ে এ পলিমারকরণ ঘটে। বহুল ব্যবহৃত ঘনীভবন পলিমারের নাম নাইলন। উচ্চ তাপ, উচ্চ চাপে প্রভাবকের উপস্থিতিতে অসংখ্য ডাইকার্বক্সিলিক এসিড এবং ডাইঅ্যামিন অণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে নাইলন উৎপন্ন করে। হঐঙঙঈ-(ঈঐ২)৪-ঈঙঙঐ + হঐ২ঘ-(ঈঐ ২)৬-ঘঐ ২ → {-ঙঈ-(ঈঐ ২)৪-ঈঙঐঘ-(ঈঐ ২)৬-ঘঐ-} হ + ২হঐ২ঙ প্রাকৃতিক পলিমারসমূহ (স্টার্চ, সেলুলোজ ও প্রোটিন) ঘনীভবন পলিমারের উদাহরণ। প্রাকৃতিক পলিমার যেমন, সেলুলোজ, উল, সিল্ক দিয়ে সুতা তৈরি করা যায় কিন্তু স্টার্চ ও রাবার দিয়ে সুতা তৈরি করা যায় না। অর্থাৎ প্রাকৃতিক পলিমার দুই ধরনের। কৃত্রিম পলিমার (নাইলন, পলিস্টার) দিয়ে কাপড় তৈরি, রশি এবং দাঁতের ব্রাশ তৈরি করা হয়। রসায়ন ১৮৩ ছক ১১.৩: বিভিন্ন পলিমারের ধর্ম ও ব্যবহার গ. ব্যবহার ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প -াস্টিকের প্রকারভেদ: গঠন ও তাপীয় বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কৃত্রিম পলিমার (প-াস্টিক) দুই ধরনের। এর মধ্যে এক ধরনের পলিমার লম্বা সরু জট পাকানো (প ৎড়ংং ষরহশ ং ) শিকল গঠন করে। এ ধরনের পলিমার শিকলের কার্বনসমূহের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধন গঠিত হয়। কিন্তু পার্শ্ববর্তী শিকলসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল কাজ করে। এই শিকলগুলো একটি অপরটির ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। ফলে এ জাতীয় পলিমারকে সহজে সম্প্রসারিত, বাঁকানো এবং তাপ প্রয়োগে গলানো যায়। এ ধরনের পলিমারকে থার্মোপ -াস্টিক বলে। উদাহরণ: পলিথিন, পলিপ্রপিলিন, চঠঈ ইত্যাদি। থার্মোপ-াস্টিককে বার বার গলানো যায় এবং বিভিন্ন আকৃতির বস্তুতে পরিণত করা যায়। দ্বিতীয় ধরনের পলিমারে কার্বন পরমাণুসমূহ শিকলের মধ্যে সমযোজী এবং একই সাথে পার্শ্ববর্তী শিকলের কার্বনের সাথে দৃঢ়ভাবে হাইড্রোজেন বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। এ ধরনের পলিমার থার্মোসেটিং। থার্মোসেটিং প -াস্টিক, থার্মোপ -াস্টিকের চেয়ে শক্ত এবং কম নমনীয়। তাপ প্রয়োগে এগুলো গলার পরিবর্তে কয়লায় পরিণত হয়। এ অবস্থায় কার্বন শিকলের ক্রস লিংক ভেঙে গেলে পলিমার বিযোজিত হয়। থার্মোসেটিং প -াস্টিককে একবার মাত্র গলানো এবং আকার দেওয়া যায়। সচরাচর কম্প্রেশন মোল্ডিং এর মাধ্যমে এটা করা হয়। উদাহরণ: ব্যাকেলাইট, ফাইবার গ-াস, কৃত্রিম রেজিন এবং ইপোক্সি গ-ু। শিক্ষার্থীর কাজ: তোমার ব্যবহার্য পলিমারসমূহকে থার্মোপ-াস্টিক ও থার্মোসেটিং প-াস্টিক হিসেবে শ্রেণিবিভাগ কর। ঘ. কৃত্রিম পলিমার বা প -াস্টিক জাতীয় দ্রব্যের সুবিধা ও অসুবিধা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সারা বিশ্বে কৃত্রিম পলিমার বা প-াস্টিক জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাড়তে থাকে। মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত কাঠ, কাগজ, গ -াস ও ধাতুর তৈরি দ্রব্যের জায়গায় প-াস্টিকের দ্রব্য স্থান করে পলিভিনাইলক্লোরাইড (চঠ ঈ ) ঈঐ২ঈঐঈষ = শক্ত, কঠিন এবং পলিথিনের তুলনায় কম নমনীয় পানির পাইপ, বিদ্যুৎ অপরিবাহী পদার্থ, পলিটেট্রাফ্লোরোইথিন (চঞ ঋঊ ) বা টেফলন ঈঋ২ঈঋ = ২ ননস্টিক ও তাপসহ নন স্টিক পাত্র, নাইলন ঐঙঙঈ-(ঈঐ২)ী-ঈঙঙঐ ও ঐ২-(ঈঐ ঘ ২)ী-ঘ ঐ ২ চকচকে, টেকসই, নমনীয় কৃত্রিম কাপড়, রশি, দাঁতের ব্রাশ পলিমারের নাম মনোমারের সংকেত পলিমারের ধর্ম ব্যবহার পলিথিন ঈঐ২ঈঐ = ২ সহজে কাটা যায় না, টেকসই প -াস্টিক ব্যাগ, প -াস্টিক শিট পলিপ্রোপিন ঈঐ২ঈঐ-ঈঐ = ৩ সহজে কাটা যায় না, টেকসই প -াস্টিক রশি, প -াস্টিক বোতল, ১৮৪ রসায়ন নিয়েছে। প -াস্টিকের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে কাঠ ও ধাতুর তৈরি দ্রব্যের পরিবর্তে প-াস্টিকদ্রব্য ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। প-াস্টিক কম মূল্যে পাওয়া যায়, ক্ষয় হয় না, রাসায়নিক পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে না, সহজে রং করা যায়, বিদ্যুৎ অপরিবাহী, ওজনে হাল্কা, সহজে পরিবহনযোগ্য, দীর্ঘস্থায়ী এবং আবহাওয়া দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। প -াস্টিক দ্রব্যের অনেক সুবিধা থাকলেও এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। কৃত্রিম পলিমার বা প -াস্টিক ব্যবহারের প্রধান সমস্যা ইহা বিযোজিত হয় না এবং পরিবেশকে দূষিত করে। অধিকাংশ প্রাকৃতিক উপাদান মাটির ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বিযোজিত হয় কিন্তু প -াস্টিক দ্রব্য ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বিযোজিত হয় না। এ জন্য প-াস্টিককে নন বায়োডিগ্রেডেবল (ঘড়হ-নরড়ফবমৎধফধনষব ) পদার্থ বলে। অনেক ক্ষেত্রে প -াস্টিককে পুড়িয়ে শেষ করা হয় যাতে বিষাক্ত ধোঁয়া (হাইড্রোজেন ক্লোরাইড, অ্যালডিহাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড) উৎপন্ন হয়। এ সকল গ্যাস মানুষের শরীরে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে। বর্তমানে বিজ্ঞানীগণ কৃত্রিম পলিমার তৈরি করেছেন যা প্রথমে সূর্যের আলোতে বিযোজিত (চযড়ঃড়ফবমৎধফধনষব ) হয় এবং পরবর্তীতে প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া জীবাণু দ্বারা বিযোজিত (ইরড়ফবমৎধফধনষব ) হয়। এদেরকে বায়োপলিমার বলে। বেশিরভাগ বায়োপলিমার ভুট্টা ও ইক্ষু থেকে প্রস্তুত করে। এই পলিমার জীবাণু দ্বারা বিযোজিত হতে ২০ থেকে ৩০ বছর প্রয়োজন। পলিইথানল {-ঈঐ ২-ঈঐ(ঙঐ)-}হ এক প্রকার পলিমার যাহা হাসপাতালে ব্যবহৃত হয় এবং পানিতে দ্রবীভূত হয়। পলিইথানলের পানিতে দ্রবনীয়তা হ এর মানের উপর নির্ভর করে। প -াস্টিক পলিমারসমূহকে যে মনোমার দ্বারা প্রস্তুত করা হয় তাহা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সংগ্রহ করে। এতে সীমিত জীবাশ্ম জ্বালানির মজুদ হ্রাস পায়, অপরদিকে বর্তমানে বিশ্বের ৪% জীবাশ্ম জ্বালানি দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ, প -াস্টিক পলিমার প্রস্তুত করতে ব্যবহার করা হয়। অপ্রয়োজনীয় প-াস্টিক ব্যবহার না করে এবং ব্যবহৃত প-াস্টিক পুনর্ব্যবহার (জবপুপষরহম ) করে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমানো যায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে কৃত্রিম আঁশের উপর নির্ভরশীলতা কমানো প্রয়োজন। তুলা, উল ও পাটের আঁশ ছাড়াও প্রাকৃতিক আঁশের ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। বাংলাদেশের মাটি উর্বর, এখানে তুলা ও পাট চাষের পাশাপাশি মেসতা চাষ করে কৃত্রিম আঁশের ব্যবহার কমানো যায়। ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় আনারসের পাতা এবং কলাগাছের আঁশ থেকে উন্নতমানের সুতা তৈরি করে কাপড় বুনানো হয়। ১১.৬ হাইড্রোকার্বন থেকে অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিড প্রস্তুতি পেট্রোলিয়ামের প্রধান উপাদান হাইড্রোকার্বন (অ্যালকেন, অ্যালকিন ও অ্যালকাইন)। হাইড্রোকার্বন থেকে সকল শ্রেণির জৈব যৌগ প্রস্তুত করা হয়। সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন হ্যালোজেনের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকাইল হ্যালাইড উৎপন্ন করে। অ্যালকিন হাইড্রোজেন ব্রোমাইডের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকাইল ব্রোমাইড উৎপন্ন করে। অ্যালকাইল হ্যালাইড সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের জলীয় দ্রবণের সাথে বিক্রিয়ায় অ্যালকোহলে পরিণত হয়। উৎপন্ন অ্যালকোহলকে শক্তিশালী জারক (ক ২ঈৎ২ঙ৭ ও ঐ২ঝঙ৪) দ্বারা জারিত করলে প্রথমে অ্যালডিহাইড/কিটোন এবং পরবর্তীতে জৈব এসিডে পরিণত হয়। জ-ঈঐ ২-ঈঐ৩ + ইৎ ২ → জ-ঈঐ ২-ঈঐ২ইৎ + ঐইৎ জ-ঈঐ = ঈঐ ২ + ঐইৎ → জ-ঈঐ ২-ঈঐ২ইৎ জ-ঈঐ ২-ঈঐ২ইৎ + ঘধঙঐ (ধয়) → জ-ঈঐ ২ঈঐ২ঙঐ + ঘধইৎ জ-ঈঐ ২ঈঐ২ঙঐ + [ঙ] → জ-ঈঐ ২-ঈঐঙ জ-ঈঐ ২ঈঐঙ + [ঙ] → জ-ঈঐ ২-ঈঙঙঐ জ = অ্যালকাইলমূলক = ঈঐ ৩, ঈ২ঐ৫-, ঈ৩ঐ৭- ইত্যাদি ফর্মা-২৪, রসায়ন-৯ম-১০ম রসায়ন ১৮৫ এই পদ্ধতি ছাড়াও হাইড্রোকার্বন থেকে অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিড প্রস্তুত করা যায়। ফসফরিক এসিডের উপস্থিতিতে অ্যালকিন ৩০০ ড়ঈ তাপমাত্রায় এবং ৬০ বায়ুচাপে জলীয়বাষ্পের (ঐ২ঙ) সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকোহল উৎপন্ন করে। ২% মারকিউরিক সালফেট (ঐমঝঙ৪) এবং ২০% সালফিউরিক এসিডের (ঐ২ঝঙ৪) উপস্থিতিতে অ্যালকাইন (ইথাইন) পানির সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালডিহাইড উৎপন্ন করে। ঐমঝঙ৪ বিষাক্ত হওয়ায় শিল্পক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়। পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত অ্যালকেনকে উচ্চ তাপ ও চাপে বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত করলে ইথানয়িক এসিড উৎপন্ন হয়। ঈঐ ৩-ঈঐ৩(ম) + [ঙ] → ঈঐ৩-ঈঙঙঐ(ষ) ঈঐ ৩-ঈঐ২-ঈঐ৩(ম) + [ঙ] → ঈঐ৩-ঈঙঙঐ(ষ) ১১.৭ অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিডের ব্যবহার অ্যালকোহল: মিথানল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। মিথানল মূলত অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়। রাসায়নিক শিল্পে ইথানল থেকে ইথানয়িক এসিড, বিভিন্ন জৈব এসিডের এস্টার প্রস্তুত করা হয়। ইথানলকে প্রধানত পারফিউম, কসমেটিক্স ও ঔষধ শিল্পে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করে। ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেডের ইথানলকে ঔষধ শিল্পে এবং রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ঔষধে ব্যবহার করা হয়। ইথানলের ৯৬% জলীয় দ্রবণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। যে সকল উপাদান পানিতে দ্রবণীয় নয় তাদেরকে ইথানলে দ্রবীভূত করে ব্যবহার করা যায়। পারফিউম শিল্পেও ইথানলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পারফিউমে ইথানল ব্যবহারের পূর্বে তাকে গন্ধমুক্ত করা হয়। ঔষধ ও খাদ্য শিল্প ব্যতীত অন্য শিল্পে ব্যবহৃত রেকটিফাইড স্পিরিট সামান্য মিথানল যোগে বিষাক্ত করে ব্যবহার করে। একে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। কাঠ এবং ধাতুর তৈরি আসবাবপত্র বার্নিশ করার জন্য মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ব্রাজিলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ইথানলকে মটর ইঞ্জিনের জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্যাসহোল (এধংড়যড়ষ) এক প্রকার জ্বালানি যেখানে পেট্রোলের সাথে ১০-২০% ইথানল মিশ্রিত থাকে। স্টার্চ (চাল, গম, আলু ও ভূট্টা) থেকে গাঁজন (ঋবৎসবহঃধঃরড়হ) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। এছাড়া চিনি শিল্পের উপজাত উৎপাদ চিটাগুড় থেকে একই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল (ইথানল) পাওয়া যায়। বাংলাদেশের দর্শনায় কেরু এন্ড কেরু কোম্পানিতে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। অ্যালকোহলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার ঈঐ৩ঈঐ২ঙঐ(ষ) + ঙ ৯ ২ ২(ম) → ২ঈঙ২(ম) +৬ঐ২ঙ(ম) + তাপশক্তি কাজ : অ্যালকিন ⎯ ⎯→ ? অ্যালকাইলহ্যালাইড ⎯ ⎯→ ? অ্যালকোহল ⎯ ⎯→ ? অ্যালডিহাইড / কিটোন ⎯ ⎯→ ? জৈব এসিড ঐ ঐ২ঈ ঈঐ২(ম) ৩ঈ ঈঐ২ঙঐ(ষ) ৩০০ ড়ঈ, ৬০ ধঃস + ঐ ২ঙ(ম) ঐ ৩চঙ৪ ঐ ঐ২ঈ ঈঐ২(ম) ৩ঈ ঈঐঙ(ষ) ঐমঝঙ৪, ঐ২ঝঙ৪ + ঐ ২ঙ(ম) ১৮৬ রসায়ন করলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমে অপরদিকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। অ্যালডিহাইড: শিল্প কারখানায় অ্যালডিহাইডের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম। তবে অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুত করার জন্য অ্যালডিহাইডের প্রচুর ব্যবহার রয়েছে। মিথান্যাল বা ফরমালডিহাইডের সম্পৃক্ত (৪০%;আয়তন হিসেবে, ৩৭%; ভর হিসেবে) জলীয় দ্রবণকে ১০০% ফরমালিন বলে যাহা মৃত প্রাণী সংরক্ষণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। অ্যালডিহাইড থেকে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় প-াস্টি ক দ্রব্য তৈরি হরা হয়। নি¤œ আণবিক ভর বিশিষ্ট অ্যালডিহাইডের (মিথান্যাল; ঐঈঐঙ) জলীয় দ্রবণকে অতি নিম্ন চাপে উত্ত প্ত করলে ডেরলিন ( উবৎষরহ) নামক শক্ত পলিমার উৎপন্ন হয়। ডেরলিন পলিমার দিয়ে চেয়ার, ডাইনিং টেবিল, বালতি ইত্যাদি জাতীয় দ্রব্য তৈরি করা হয় যা পূর্বে কাঠ ও ধাতু দিয়ে তৈরি করা হত। এখানে পলিমার অণুতে মনোমারের সংখ্যা পাঁচ থেকে পঞ্চাশ পর্য ন্ত হতে পারে। ফরমালডিহাইড (মিথান্যাল) ও ইউরিয়া থেকে ঘনীভবন পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় ইউরিয়া -ফ রমালডিহাইড রেজিন (মেলামাইন পলিমার) উৎপন্ন হয় যা গৃহের পে -ট, গ -াস, মগ ইত্যাদি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। প্যারালডিহাইড নামক ঘুমের ঔষধ প্রস্তুত করতে অ্যাসিটালডিহাইড ব্যবহার করা হয়। জৈব এসিড: জৈব এসিডসমূহ অজৈব এসিডের তুলনায় দুর্বল। জৈব এসিড মানুষের খাদ্যাপোযোগী উপাদান। আমরা লেবুর রস (সাইট্রিক এসিড), তেঁতুল (টারটারিক এসিড), দধি (ল্যাকটিক এসিড), এর সাথে জৈব এসিডকে খাবার হিসেবে গ্রহণ করি। জৈব এসিডের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার ক্ষমতা থাকায় একে খাদ্য সংরক্ষক ( ঋড়ড়ফ চৎবংবৎাধঃরাব) হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ইথানয়িক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে যাহা সস্ ও আচার সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। জৈব এসিড থেকেও পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় প-াস্টি ক দ্রব্য তৈরি করা হয়। প্যান্ট, শার্টের কাপড় তৈরি করতে ব্যবহৃত টেরিলিন (পলিএস্টার) নামক রাসায়নিক ত ন্তু অ্যালকোহল ও জৈব এসিড থেকে ঘনীভবন পলিমারকরণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। এখানে উলে -খ্য কার্বোহাইড্রেড ও তেল জাতীয় প্রাকৃতিক পলিমার অ্যালকোহল ও জৈব এসিড থেকে গঠিত হয়। তবে পলিএস্টার দ্বারা প্রস্তুত কাপড়ের চাহিদা দিন দিন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। সুগন্ধি (এস্টার) জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি করতে জৈব এসিড ব্যবহৃত হয়। শিক্ষার্থীর কাজ : প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও কয়লা ব্যবহারের কৌশল: প্রাকৃতিক গ্যাস পেট্রোলিয়াম ও কয়লায় অনেক ক্ষেত্রে সালফার, নাইট্রোজেন উপস্থিত থাকে। বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এগুলোর বিক্রিয়ায় উৎপাদ বিবেচনায় নিবে। ঐ-ঈ-ঐ (ষ) ঙ হ ঙ ঈ হ(ং) ঐ ঐ হ ঐঙ-ঈঐ ২-ঈঐ২-ঙঐ + হ ঐঙঙঈ ঈঙঙঐ ঈ ঈ ঙ ঈঐ২-ঈঐ২ ঙ ঙ হ + (২হ-১) ঐ২ঙ রসায়ন ১৮৭ প্রাকৃতিক গ্যাস পেট্রেলিয়াম ও কয়লা পোড়ালে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। এটি একেটি গ্রীনহাউজ গ্যাস।] পরিবেশের উপর প -াস্টিক দ্রব্যের প্রভাব সম্পর্কিত অনুসন্ধান: প -াস্টি ক বর্জ্য ফেলার জায়গা, প -াস্টি কের পচনশীলতা, প-াস্টি ক দ্রব্য মাটিকে ঢেকে রাখলে এতে বায়ু ও সূর্যালোক প্রবেশের সুযোগ, বৃক্ষের শিকড় বিস্তারে বাধা ইত্যাদি বিবেচনা করবে। ১১.৮ জৈব ও অজৈব যৌগের পার্থক্যকরণ এ অধ্যায়ে তুমি যে সকল যৌগ সম্পর্কে অধ্যয়ন করেছ তার সবই জৈব যৌগ। জৈব যৌগসমূহ সমযোজী বন্ধ নের মাধ্যমে এবং অজৈব যৌগসমূহ আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। তবে কিছু সমযোজী যৌগ থাকে যারা আয়নিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। একইভাবে কিছু আয়নিক যৌগ থাকে যারা সমযোজী বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। শিক্ষার্থীর কাজ : জৈব যৌগের সংজ্ঞা দাও। চিন্তা কর : আয়নিক ও সমযোজী যৌগের পার্থক্যের ভিত্তিতে কিভাবে জৈব ও অজৈব যৌগের মধ্যে পার্থক্য করা যায়। কয়েকটি জৈব ও অজৈব যৌগ নিয়ে গলনাংক নির্ণয় করে পার্থক্য দেখাও। অনুশীলনী বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: ১. প্রাকৃতিক গ্যাসে শতকরা কত ভাগ ইথেন থাকে? ক. ৩ ভাগ খ. ৪ ভাগ গ. ৬ ভাগ ঘ. ৭ ভাগ ২. নিচের কোন যৌগটি ব্রোমিন দ্রবণের লাল বর্ণকে বর্ণহীন করতে পারে? ক. ঈ ৩ঐ৮ খ. ঈ৩ঐ৮ঙ গ. ঈ ৩ঐ৬ঙ ঘ. ঈ৩ঐ৪ উপরের বিক্রিয়া থেকে ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও: ৩. ণ যৌগটির নাম কী? ক. ১, ১-ডাইব্রোমো প্রোপেন খ. ২, ২-ডাইব্রোমো প্রোপেন গ. ১, ১, ২, ২-টেট্রাব্রোমো প্রোপেন ঘ. ১, ২-ডাইব্রোমোপ্রোপিন ৪. উদ্দ ীপকের ‘ ঢ’ যৌগটির. সংযোজন বিক্রিয়া দেয় রর. প -াস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ররর. ণ অপেক্ষা কম সক্রিয় ১৮৮ রসায়ন নিচের কোনটি সঠিক? ক. র ও রর খ. রর ও ররর গ. র ও ররর ঘ. র, রর ও ররর সৃজনশীল প্রশ্ন: ১. মার্চ -জুন মা সে বাংলাদেশে সংরক্ষণের অভাবে প্রচুর পরিমাণে আলু নষ্ট হয়। আলু থেকে নিচের বিক্রিয়ায় ইথানল উৎপন্ন করা যায়। এনজাইম (ডায়াসটেজ ও ম্যালটেজ) এনজাইম (জাইমেজ) স্টর্ াচ গ-ুকোজ ইথানল ঐ ২ঙ ক. পেট্রোলিয়ামের প্রধান উপাদান কী? খ. অ্যালকেন অপে -া অ্যালকিন সক্রিয় কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. আলু থেকে মিথেন প্রস্তুতির বর্ণনা দাও। ঘ. অতিরিক্ত আলুকে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা বিশে -ষণ কর। ২. পর্যায়ক্রমে একটি গ্যাসকে র থেকে ররর বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন পদার্থে পরিণত করা হয়। ক. হাইড্রোকার্বন কাকে বলে? খ. বেনজিন অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন কেন? গ. রর নং বিক্রিয়াটি কোন ধরনের বিক্রিয়া? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দ ীপকের প্রথম বিক্রিয়ক গ্যাসটি ব্যবহার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা বিশে -ষণ কর।


Share your opinion