নিম্নশ্রেণির জীব

From Notun boi
Jump to: navigation, search

সূচিপত্র


নিম্নশ্রেণির জীব
উদ্ভিদ ও প্রাণীর কোষীয় সংগঠন
উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য
শ্বসন
পরিপাকতন্ত্র এবং রক্ত সংবহনতন্ত্র
পদার্থের পঠন
শক্তির ব্যবহার
শব্দের কথা
তাপ ও তাপমাত্রা
বিদ্যুৎ ও চুম্বকের ঘটনা
পারিপার্শ্বিক পরিবর্তন ও বিভিন্ন ঘটনা
সৌরজগৎ আমাদের পৃথিবী
প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং দূষণ
জলবায়ু পরিবর্তন

ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল, অ্যামিবা ইত্যাদিকে নিম্নশ্রেণির জীব বলা হয়। এদের মধ্যে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অ্যামিবা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া দেখা যায় না। এরা অণুজীবের অন্তর্ভুক্ত। কিছু কিছু ছত্রাক ও শৈবাল খালি চোখে দেখা গেলেও অধিকাংশ ছত্রাক ও শৈবাল দেখতে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য লাগে। এসব আদিজীব মানুষ, গৃহপালিত পশুপাখি ও অর্থকরী উদ্ভিদের রোগ সৃষ্টি করে। আবার পরিবেশে এদের অনেক উপকারী ভূমিকাও রয়েছে।

Aa116.jpg

অধ্যায়ের পাঠ শেষে আমরা

  • অণুজীবের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • অণুজীবের শ্রেণিবিন্যাস করতে পারব।
  • ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অ্যামিবার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব।
  • মানবদেহে স্বাস্থ্যঝুকি সৃষ্টিতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও এন্টামিবার ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও এন্টামিবার কারণে সৃষ্ট মানবদেহে স্বাস্থ্য ঝুকি প্রতিরোধ এবং প্রতিকার

ব্যাখ্যা করতে পারবে। প্রতিকারে নিজে সচেতন হবে এবং অন্যদেরও সচেতন করবো।

  • শৈবাল ও ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য, উপকারিতাও অপকারিতা ব্যাখা করতে পারব।
  • কীভাবে ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • ছত্রাকজনিত রোগ সংক্রমণের বিষয়ে নিজে সচেতন হবো ও অন্যদের সচেতন করবো।
  • এরা মানুষ গরু ছাগলের অনেক মহামারি রোগ ছড়ায়।

পাঠ-১, ২ : অনুজীব জগৎ[edit]

আমাদের চারপাশে বাতাসে কত যে অণুজীব ছড়িয়ে আছে তার কি কোন খবর আমরা রাখি? চোখে দেখা যায় এমন জীবের চেয়ে চোখে দেখা যায় নাএমন জীবের সংখ্যা অনেক বেশী।
অণুজীব খালি চোখে দেখা যায় না। এদের দেখতে তাই প্রয়োজন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের। ভাইরাস জাতীয় অণুজীব সাধারণ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদের দেখতে হলে চাই ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র। মারগুলিস ও হুইটেকার পঞ্চরাজ্য প্রস্তাবনায় অণুজীবগুলোকে মনেরা, প্রোটিস্টা ও ছত্রাক রাজ্যে স্থাপন করেছেন। বর্তমানকালে অণুজীববিদগণ অণুজীব জগৎকে তিনটি রাজ্যে ভাগ করা হয়।
অণুজীব জগৎ

Aa117.jpg

রাজ্য-১ : এক্যারিওটা বা অকোষীয় :এসব অণুজীব এতই ছোট যে তা সাধারণ আলোক অনুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচেও দেখা যায় না। এদের দেখতে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়, যেমন- ভাইরাস।
রাজ্য-২ : প্রোক্যারিওটা বা আদিকোষী :যে সব অণুজীবের কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত নয় তারাই এ রাজ্যের সদস্য। সুগঠিত কেন্দ্রিকা না থাকায় এদের কোষকে আদিকোষ বলা হয়, যথা- ব্যাকটেরিয়া।
রাজ্য-৩ : ইউক্যারিওটা বা প্রকৃতকোষী :যেসব অনুজীব কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত তাদেরই প্রকৃত কোষ বলে। শৈবাল, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এ ধরনের অণুজীব।
নতুন শব্দ : এক্যারিওটা, প্রোক্যারিওটা, ইউক্যারিওটা, অণুজীব, ভাইরাস।

পাঠ- ৩, ৪ : ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া[edit]

Aa118.jpg

নিউক্লিক এসিড ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত অতি ক্ষুদ্র পরজীবী যা শুধুমাত্র জীবিত কোষেই জীবনের কিছু কিছু লক্ষণ প্রকাশ করে তারাই ভাইরাস। ‘ভাইরাস’ অর্থ বিষ। ইলেকট্রোন অণুবীক্ষণ যন্ত্রছাড়া এদের দেখা যায় না। ভাইরাস দেহে কোষ প্রাচীর, পলজমালেমা, সংগঠিত নিউক্লিয়াস, সাইটোপলজম ইত্যাদি কিছুই নেই। তাই ভাইরাস দেহকে অকোষীয় বলে। এরা শুধুমাত্র প্রোটিন আবরণ ও নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ বা আরএনএ) নিয়ে গঠিত। ভাইরাসের মাথা, লেজ ও স্পর্শকতন্ত থাকে। ভাইরাস, রিকেটস, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল, প্রোটোজোয়া ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের অণুজীব আমাদের পরিবেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এরা অধিকাংশই আমাদের উপকার করে। তবে কিছুকিছু অণুজীব আছে যারা আমাদের দেহে রোগ সৃষ্টি করে।এবার আমরা কয়েকটি অনুজীব সম্পর্কে জানব।

এরা সরলতম জীব। এর দেহ প্রধানত আমিষ ও নিউক্লিক এসিড দ্বারা গঠিত। আমিষ আবরণ থেকে নিউক্লিক এসিড বের হয়ে গেলে এরা জীবের সকল লক্ষণ হারিয়ে ফেলে। তবে মজার ব্যাপার হল যে, যেই মাত্র এদের একত্র করা হল অমনি এরা জীবনের সব লক্ষণ ফিরে পাবে।
ভাইরাস :ভাইরাস প্রকৃত পরজীবী অর্থাৎ জীবীত জীবদেহ ছাড়া এদের কোন অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। জীব দেহের বাইরে এরা জীবনের কোন লক্ষণই প্রকাশ করে না।
কাজ :একটি ভাইরাস এর চিত্র পোষ্টার কাগজে এঁকে বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করে দেয়ালে টানিয়ে দাও। ভাইরাস গোলাকার, দন্ডাকার, ব্যাঙাচির ন্যায়, পাউরুটির ন্যায় হতে পারে। ভাইরাস মানব দেহে বসন্ত, হাম, সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি করে। ধানের টুংরো ও তামাকের মোজায়েক রোগভাইরাসের কারণে হয়। বসন্ত, হাম, সর্দি ইত্যাদি বায়ুবাহিত রোগ।
ব্যাকটেরিয়া :ব্যাকটেরিয়ার কিছু কথা আমরা পূর্বের শ্রেণিতে জেনেছি। এবার একটু বিস্তারিত জানবো। ব্যাকটেরিয়া হল আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব।

Aa119.jpg

বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফণ লিউয়েনহক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান। ব্যাকটেরিয়া কোষগোলাকার, দন্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। দেহের আকার আকৃতির ভিত্তিতে একে নিম্নরূপে শ্রেণীবদ্ধকরা হয় :
ক) কক্কাস :কোন কোন ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গোলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে, যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
খ) ব্যাসিলাস :এরা লম্বা দন্ডের ন্যায় দেখতে। ধনুষ্টংকার, রক্তামাশয় ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে।
গ) কমা :এরা বাঁকা দন্ডের ন্যায় আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরণের।
ঘ) স্পাইরিলাম :এ ধরণের ব্যাকটোরিয়ামের আকৃতি প্যাঁচানো।
ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা :

  • মৃত জীবদেহ ও আর্বজনা পচাতে সাহায্য করে।
  • একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংরক্ষণ করে।
  • পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে একমাত্র ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে।
  • দই তৈরি করতে ও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
  • বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক তৈরি হয়।
  • গবেষণাগারে জিন প্রকৌশলে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

পাঠ-৫-৬ : শৈবাল ও ছত্রাক[edit]

শৈবাল :সমাঙ্গ বর্গের প্রধানত ক্লোরোফিলযুক্ত ও স্বভোজী উদ্ভিদরাই শৈবাল। এরা আলোকিত স্থান পছন্দ করে। এরা মাটি, পানি ও অন্য গাছের উপর জন্মাতে পারে।
এদের দেহ এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে। এদের দেহে কোন পরিবহন কলা থাকে না। এর সবুজ, লাল, বাদামী ইত্যাদি নানা রঙের হতে পারে। সমুদ্রে বা পুকুরে এদের ‘পলঙ্কটন’ হিসেবে দেখা যায়।
এদের প্রতিটি কোষ থেকেই যৌনাঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। এরা অযৌন ও যৌন উপায়ে বংশ বৃদ্ধিকরে। ‘স্পাইরোগাইরা’ যে কোনো জলাশয়ে পাওয়া যায়।বর্ষাকালে এদের অধিক সংখ্যায় দেখা যায়।
উপকারিতা :সামদ্রিক শৈবাল থেকে এ্যালজিন প্রস্তুত করা হয় যা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আয়োডিন ও পটাশিয়ামের একটি ভাল উৎস সামদ্রিক শৈবাল। মৎস্য চাষে ফাইটোপলঙ্কটন বিশেষ ভূমিকা রাখে। এর প্রধান অংশই শৈবাল।
অপকারিতা :এরা কখনও মানুষ ও উদ্ভিদের রোগ সৃষ্টি করে। চাপাতার রেড রাস্ট একটি মারাত্মক রোগ। পুকুরে শৈবাল ওয়াটারব্লুম সৃষ্টি করে। ফলে জলজ প্রাণী ও মাছের অক্সিজেনের অভাব হয়।

ছত্রাক[edit]

আমরা জেনেছি ছত্রাক অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ।দেহে ক্লোরোফিল নেই তাই এরা সালোকসংশে−ষণের 

মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। এজন্য ছত্রাক পরভোজী উদ্ভিদ। অর্থাৎ খাদ্যের জন্য তাদের জীবিত অথবা মৃত জীবদেহের উপর নির্ভর করতে হয়।
মৃতজীবী ছত্রাক জৈব পদার্থে পূর্ণ মাটি বা মৃত জীবদেহে জন্মে। বাসি, পচা খাদ্যদ্রব্য,ফলমূল, শাক-সবজি, ভেজা রুটি, ভেজা চামড়া, গোবর ইত্যাদিতে জন্মায়।
এদের দেহ এককোষী অথবা বহুকোষী সূত্রাকার। এককোষী ছত্রাক দ্বিভাজন, বাডিং ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় বংশ বিস্তার করে।
ছত্রাকের অর্থনৈতিক গুরুত্ব :ছত্রাক আমাদের অপকার ও উপকার দুটো কাজই করে। পেনিসিলিনসহ বহু মূল্যবান ঔষধ ছত্রাক থেকে পাই। শক্তিবর্ধক আরগট মিকচার ছত্রাকথেকে পাওয়া যায়। পাউরুটি ফোলাতে ঈস্ট নামক ছত্রাক ব্যবহার করা হয়। ঈস্ট ভিটামিন সমৃদ্ধবলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এগারিকাস বর্তমানে সৌখিন খাদ্য বলে বিবেচিত। বর্তমানে আমাদের দেশসহ বহু দেশে এর চাষ করা হয়।
খাদ্যদ্রব্যের পচন ও রোগ সৃষ্টিতে ছত্রাক খুবই পটু। মানুষ, জীবজন্তুও উদ্ভিদের বহু রোগের জন্য দায়ী এই ছত্রাক। আবর্জনা পচিয়ে মাটিতে মেশাতেও এদের ভূমিকা রয়েছে।
ছত্রাক মানুষ, পশুপাখী ও অর্থকরী ফসলের রোগ সৃষ্টি করে থাকে। দাদ ও ছুলী (ছোলম) ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। মানুষের শ্বাসনালীর প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। উদ্ভিদের রোগ সৃষ্টিতে ছত্রাক খুবই দক্ষ। যেমন- আলুর বিলম্বিত ধ্বসা রোগ, পাটের কালপট্টিরোগ, আখের লাল পচা রোগ সৃষ্টিকরে। এরা সহজেই কাঠ ও বেত বা বাঁশের আসবাবপত্র পচিয়ে ফেলে আমাদের ক্ষতি করে।
ছত্রাক সংক্রমন প্রতিরোধকরণ :বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক বিভিন্ন ধরনের রোগসৃষ্টি করে। এসব রোগ থেকে নিরাপদ থাকতে যেটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ তাহল কিভাবে রোগজীবাণুটি ছড়ায় সে সম্পর্কে ভাল ধারনা রাখা। ছত্রাক জনিত রোগ খুবই ছোঁয়াচে। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এ রোগ সংক্রামণ হতে পারে। এজন্য যা যা করণীয় তা নিম্নে দেয়া হলঃ

  • দাদ বা ছুলী (ছোলম) আক্রান্তব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়চোপড় ব্যবহার না করা।
  • মাথার খুসকি এক ধরনের ছত্রাক জনিত রোগ। এর থেকেবাঁচতে অন্যের চিরুনী বা চুলের ব্রাশ, ক্লিপ

ইত্যাদি ব্যবহার না করা। এমনকি অন্যের টুপি যা পাগড়ীও ব্যবহার না করা।

  • এ্যাথলেটস্ ফুট রোগে পুরুষের পায়ের তলা বিশেষ করে গোড়ালি ফেটে যায়। এ ধরণের রোগী যে

মেঝেতে হাঁটে সেখানে খালি পায়ে না হাঁটা।

  • আক্রান্তমানুষের সাথে মেলামেশা কম করা এবং মেলামেশার পরপরই সাবান দিয়ে হাত মুখ ও পা

পরিষ্কার করা।

  • উদ্ভিদে এ ছত্রাকের আক্রমণ হলে ঔষধ ছিটানো অথবা উদ্ভিদটিকে তুলে পুড়িয়ে ফেলা।
  • শ্বাসনালীর সংক্রমন রোধে প্রতিরাত্রে শোবার পূর্বে লবন পানিতে কুলি করা।

অ্যামিবা[edit]

অ্যামিবা
কোষ বিভাজন

প্রোটিস্টা রাজ্যের সদস্য অ্যামিবা এককোষী প্রাণী। এদেরদেহ ক্ষুদ্রাকার। অণুবীক্ষন যন্ত্রছাড়া এদের দেখা যায় না। এরা সারাক্ষণ দেহের আকার পরিবর্তন করতে পারে। দেহ থেকে আঙ্গুলের ন্যায় কিছু অংগ তৈরি হয়। এদের ক্ষণপদ বলে। এর সাহায্যে অ্যামিবা খাদ্যগ্রহণ ও চলাচল করে। এদের দেহে পানি গহ্বর, খাদ্য গহ্বর ও সংকোচন গহ্বর থাকে। এর সারা দেহ একটি পাতলা ও স্বচ্ছ পর্দা দ্বারা ঘেরা থাকে। একে প−াজমালেমা বলা হয়। অ্যামিবা পানিতে, স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে, পুকুরের তলার পচা জৈব আবর্জনার মধ্যে জন্মে। পঁচা পানিযুক্ত ড্রেনের কাদার মধ্যে এদের পাওয়া যায়। যেমন অ্যামিবা প্রোটিয়াস (Amoeba proteus)। এর কতিপয় সদস্য রোগ সৃষ্টি করে। যেমন এন্টামিবা।
প্রজনন :এরা সাধারণ অযৌন উপায়ে বংশবৃদ্ধিকরে। অযৌন প্রজনন প্রধানত: দুই ধরনের যথা- কোষ বিভাজন ও স্পোর সৃষ্টি। কোষ বিভাজনে অ্যামিবার কোষটি দুইভাগে বিভক্ত হয় এবং দুইটি অ্যামিবা সৃষ্টি করে। স্পোর সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোষের নিউক্লিয়াস অনেকগুলো ভাগ হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। পরে প্রতিটি নিউক্লিয়াস কিছু পরিমান সাইটোপ−াজম নিয়ে শিশু অ্যামিবা গঠন করে। এ পদ্ধতিতে একটি কোষ থেকে বহু অ্যামিবা উৎপন্ন হয়।
More
https://www.youtube.com/watch?v=m0khHeEDH00

পাঠ-৭ : আমাশয় রোগের কারণ[edit]

আমাশয় রোগ সাধারণত দু’ধরণের, যথা- এমিবিক ও ব্যাসিলারি। ব্যাসিলারি আমাশয়ের কারণ হিসেবে এক ধরণের ব্যাসিলাস ব্যাক্টেরিয়াকে দায়ী করা হয়। এন্টামিবা নামক এক ধরণের এককোষী প্রাণীর আক্রমণে এমিবিক আমাশয় হয়ে তাকে।
এন্টামিবা:
এন্টামিবা এক ধরনের এককোষী জীব। সারকোমাস্টিগোফোরা (sarcomastigophora)পর্বের অর্ন্তগত খালি চোখে এদের দেখা যায় না। এদের দেহের কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নাই কারণ এরা অ্যামিবার ন্যায় আকার ও আকৃতি সর্বদাই পরিবর্তন করতে থাকে। এদের দেহ স্বচ্ছ জেলীর ন্যায় । কখনও কখনও প্রতিকুল পরিবেশে এরা গোলাকার শক্ত আবরণে নিজেদের দেহ ঢেকে রাখে। এ অবস্থায় একে সিস্ট বলে। কখনও লোহিত কণিকা ও ব্যাকটেরিয়া কোষ এরা খাদ্য রূপে গ্রহণ করে।

Aa120.jpg

এরা মানুষ, বানরজাতীয় প্রাণী, বিড়াল, কুকুর, শুকর ও ইদুরের বৃহদান্ত্রেবাস করে। সাধারণভাবে এরা ক্ষতিকর না হলেও কোন এক অজানা কারণে মাঝেমধ্যে আমাশয় রোগের সৃষ্টি করে।
কাজ :একটি অ্যামিবার স্পোরুলেশন পদ্ধতি পোটার কাগজে অঙ্কণ করে বোর্ডে টানিয়ে দাও।
এন্টামিবা কোষ বিভাজন ও অণুবীজ(স্পোর) সৃষ্টির মাধ্যমে বংশবৃদ্ধিকরে। স্পোরুলেশন পদ্ধতিতে একটি কোষের প্রোটোপ−াজম বহুখন্ডে বিভক্ত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুবীজ বা স্পোর গঠন করে। অনুকূল পরিবেশে এরা প্রত্যেকে একটি নূতন অ্যামিবা হিসাবে বড় হয়।এমিবিক আমাশয় প্রতিরোধ করতে নিম্নের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে :
ক) মলত্যাগের পর এবং খাওয়ারআগে সাবান বা ছাই দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।
খ) হাতের নখ নিয়মিত কেটে ফেলতে হবে।
গ) বিশুদ্ধপানি পান করতে হবে অন্যথায় পানি ফুটিয়ে খেতেহবে। নলকূপের পানিও নিরাপদ তাই সরাসরি পান করা, গোসল ও বাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহার করা যায়।
ঘ) স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে হবে।
এমিবিক আমাশয় সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা খুব কঠিন। এ রোগে আক্রান্তরোগী অনেক দিন রোগ ভোগের পরে এ রোগের অস্তিত্বের কথা প্রায় ভুলে যায়। রোগ জীবাণুটি সে বহণ করে কোন রোগ লক্ষণ ছাড়াই। উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ঔষধ খাওয়া উচিৎ নয়।

পাঠ -৮, ৯ : স্বাস্থ্য ঝুকি সৃষ্টিতে অনুজীবের ভূমিকা[edit]

ব্যাকটোরিয়া জীবাণু দেহাভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে পারে। অপরিষ্কার হাত হতে পারে জীবাণুর জন্য একটি সুবিধাজনক বাহণ। যার মাধ্যমে সহজেই এরা মুখগহ্বরে ঢুকে যেতে পারে। আমরা যে জামা কাপড় ব্যবহার করি তাতে লেগে ব্যাকটোরিয়ার স্পোর স্থানান্তরিত হতে পারে।
বাতাসে যে ধুলাবালি উড়ে বেড়ায় তার সাথে অতি সহজেই ব্যাকটোরিয়া বা তার স্পোর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। আমরা পরস্পরের সাথে দেখা হলে সালাম দেই ও হাত মিলাই। হাত মেলানোর মাধ্যমেও ব্যাকটোরিয়া একজন থেকে অন্যজনে অতি সহজে স্থানান্তরিত হতে পারে। পচা ও বাসী খাদ্যের মাধ্যমে জীবাণু সহজেই ছড়ায়। পানি বাহিত এসব রোগ কখনও অত্যন্তমারাত্মক ভাবে ছড়িয়ে যায়। পূর্বে এ ধরণের জীবাণুর আক্রমণে গ্রামকে গ্রাম উজাড় হয়ে গেছে। কলেরা ও টাইফয়েব ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। ভাইরাস, ব্যাকটোরিয়া ও এন্টামিবাজনিত রোগ এক সময় খুবইভয়াবহভাবে ছড়িয়ে যেত। নিরাপদ পানির অভাবে এমন হয়েছিল বলে এখন নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। যত্রতত্র মল মূত্র ত্যাগের কারণেও জনস্বাস্থ্য জনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। এসব মলমূত্রে যে জীবাণু থাকে তা ভক্ষণকারী অন্য জীব এগুলোকে ছড়িয়ে দেয়। এছাড়া বৃষ্টি বা জোয়ারের পানিতে এগুলো দূর দুরান্তেছড়িয়ে পড়ে। মলমূত্রের ন্যায় মুখের লালার মাধ্যমেও এসব রোগ ছড়াতে পারে। এমনকি যত্রতত্র থুথু বা কাসি ফেললেও ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে জন স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠে। শৌচাগার থেকে ফিরে সাবান বা ছাই দিয়ে হাত না ধোওয়ার কারণে এ জীবাণুটি হাত থেকে মুখে প্রবেশ করে এবং শেষ পর্যন্তখাদ্যনালীতে বাসা বাঁধে।
কাজ :তোমারা তোমাদের গ্রামে ঘুরে দেখ কোন কোন বাড়িতে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা রয়েছে। তার একটি তালিকা কর এবং যাদের স্বস্থ্যসম্মত পায়খানা নেই তাদেরও এব্যাপারে সচেতন কর এবং তোমার কাজের বর্ণনা লিখে দেখাও।
গ্রামঞ্চলে অনেক স্থানে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নেই এবং এসব অঞ্চলে মানুষ মাঠ বা কাঁচা পায়খানা ব্যবহার করে। এন্টামিবায় আক্রান্তব্যক্তির মল মাঠের মাটিতে মিশে যায়। এ মাটি হাতালে বা এ মাটিতে যে সবজি চাষ করা হয় তাতে এসব জীবাণু লেগে থাকে। সবজির ভিতরেও এরা প্রবেশ করে। রান্নার পরও দেখা যায় ঐ জীবাণু তখনও বেচে আছে। এ ভাবে এন্টামিবা সংক্রামিত হয়।
ভাইরাস দ্বারা আক্রান্তহলে অনেক সময় ২/৪ দিনে এমনি এমনি রোগসেরে যায়। তবে কিছু মারাত্মক রোগ আছে যার জন্য দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। হাঁচি, কাশির মাধ্যমে সর্দি কাশির ভাইরাস ছড়ায়। সংস্পর্শ দ্বারা উদ্ভিদের মোজায়েক রোগ ছড়ায়। আবার এইড্স রোগ একবার হলে আর নিরাময় হয় না। অসূস্থ রোগীর রক্ত গ্রহণ, মাদক গ্রহণ, এক সূঁইয়ে বহু লোকের ইনজেকশান গ্রহণও অসামাজিক কর্মকান্ডে এ রোগ ছড়ায়। মামস্, হাম, বসন্তইত্যাদি খুবই কষ্টকর রোগ। ভাইরাসজনিত এ সকল রোগ বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং আমাদের শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে। এভাবে নানা মাধ্যমে ভাইরাস সূস্থ দেহে প্রবেশ করে।

পাঠ-১০[edit]

মানবদেহে অণুজীব সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধ ও প্রতিকার
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও এন্টামিবা যেসব রোগসৃষ্টি করে তার প্রতিরোধও প্রতিকার করতে হলে সম্মিলিতভাবে স্বাস্থ্য রক্ষার নিয়মগুলি যতœ সহকারে পালনকরতে হবে। মনে রাখতে হবে দুর্বল স্বাস্থ্য রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুকি বেশী বহণ করে। তাই সকলের উচিৎ সুষম খাদ্য প্রয়োজন মত নিয়মিত গ্রহণ করা।
কাজ :তোমার শ্রেণির যাদের নখ বড়, যারা আজ দাঁতব্রাশ করেনি তাদের তালিকা বানাও এবং এ ব্যাপারে তাদের সচেতন কর।
শুধু গোসত আর মাছ খেলেই তা সুষম খাদ্যের ঘাটতি পূরণহয় না। একইসাথে তাজা শাকসবজি খেলে তবেই সুষম খাদ্যের ঘাটতি পূরণ হয়। ভিটামিন ও খনিজ লবণ সুস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধেরজন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরপর আসে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত ও মুখ পরিষ্কার করা, নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা, হাতের নখ কাটা ও সাবান ব্যবহার করে গোসল করা। রাস্তা ঘাটে যত্রতত্র থুথু বাকফ না ফেলা। পথ চলতে বিশেষ করে ধুলাবালু উড়ছে এমন স্থানে চলাচলের সময় অবশ্যই মাস্ক বা রুমাল ব্যবহারকরতে হবে। হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় অবশ্যই মুখে ও নাকে রুমাল চাপা দিতে হবে। রুমালে সর্দি মুছলে অবশ্যই বাসায় ফিরে তা ধুয়ে ফেলতে হবে। তোমরা সম্ভব হলে নাক ঝাড়ার জন্য টিস্যু পেপার ব্যবহার করতে পার। আক্রান্তব্যক্তির ব্যবহার্য কোন কিছু ব্যবহার বা স্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিৎ। খাবার পানি নিরাপদ হওয়া খুবই জরুরী। কলেরা, টাইফয়েড ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট রোগ থেকে বাঁচতে অবশ্যই নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে হবে। পান করা, গোসল ও কাপড় কাচা, বাসন ধোওয়া ইত্যাদির জন্য নিরাপদ পানি ব্যবহার করা উচিৎ। আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েলের পানি নিরাপদ। পুকুর ও নদীর পরিষ্কার পানিও ব্যবহারের পূর্বে ভালো ভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে।
মানুষ ও পশুপাখি আক্রান্তহলে তাদের চিকিৎসা করাতে হবে। তবে ভাইরাস, যেমন বার্ডসফ্লু হলে পাখি মেরে মাটিতে পুঁতে রাখতে হয়। ম্যাডকাউ ও অ্যানথ্রাক্স রোগ আক্রান্তগরু-মহিষও মেরে ফেলা উচিৎ কারণ এর চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে অন্যান্য পশু আক্রান্তহতে পারে।
কাজ :তোমাদের গ্রামে ঘুরে দেখ কোনকোন বাড়িতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা রয়েছে। না থাকলে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে আলোচনা কর।
এলাকার সবাইকে স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে জীবন যাপনে উৎসাহিত করতে হবে। কীভাবে এসব জীবাণু মানবদেহে ঢুকে পড়ে এবং কি করলে এদের প্রতিরোধ করা যাবে সে সম্পর্কে নিজে ভাল ভাবে জানতে হবে। বিদ্যালয়ে, মসজিদে, মন্দিরে, খেলার মাঠে, হাটে, বাজারে যেখানে লোক সমাগম বেশী সেখানেই এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করা যায়। এ ব্যাপারে মানুষকে সজাগ করাটাই সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিরোধ রোগাক্রান্ত হলে অবশ্যই তাকে একজন ভাল চিকিৎসকের নিকট গিয়ে পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে ঔষধ সেবন করতে হবে। হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিৎসায় রোগ নিরাময়ের বদলে রোগ জটিল স্তরে পৌঁছে যায়। এ ব্যাপারে তোমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে।
এ অধ্যায়ে কি শিখলাম :

  • ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া,ছত্রাক,অ্যামিবাইত্যাদি নিম্ন শ্রেণির জীব।
  • ভাইরাস অকোষীয় জীব।
  • ভাইরাস,ব্যাকটেরিয়া,ছত্রাক,অ্যামিবাইত্যাদি রোগ সৃষ্টিকারী জীব।
  • পানি, বায়ু ও অপরিচ্ছন্ন হাত রোগ জীবাণু ছড়ায়।
  • স্বস্থ্যসম্মত ভাবে জীবন যাপন রোগ প্রতিরোধ করে।

Share your opinion