রাসায়নিক বিক্রিয়া SSC

From Notun boi
Jump to: navigation, search

সূচিপত্র


রসায়নের ধারণা
পদার্থের অবস্থা
পদার্থের গঠন
পর্যায় সারণি
রাসায়নিক বন্ধন
মোলের ধারণা ও রাসায়নিক গণনা
রাসায়নিক বিক্রিয়া SSC
রসায়ন ও শক্তি
এসিড-ক্ষার সমতা
খনিজ সম্পদ ধাতু-অধাতু
খনিজ সম্পদ-জীবাশ্ম
আমাদের জীবনে রসায়ন



পরিবেশে যে সকল উপাদান রয়েছে তা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আছে। কোনোটি ভৌত পরিবর্তন এবং কোনোটি রাসায়নিক পরিবর্তন। সকল পরিবর্তনের কোনো না কোনো প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে রাসায়নিক পরিবর্তনের উপকারী ও ক্ষতিকর উভয় দিক রয়েছে। তাই রাসায়নিক পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আমাদের সম্যক জ্ঞান থাকা অত্যাবশ্যকীয়। এই অধ্যায় পাঠ করে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন এবং তার প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারবে।

Chemistry 7.0.jpg

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
১. ভৌত পরিবর্তন ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার পার্থক্য করতে পারব।
২. পদার্থের পরিবর্তনকে বিশ্লেষন করে রাসায়নিক বিক্রিয়া শনাক্ত করতে পারব।
৩. রাসায়নিক বিক্রিয়ার শ্রেণিবিভাগ রেডক্স/ননরেডক্স, একমুখী/উভমুখী, তাপ উৎপাদী/তাপহারী করতে পারব এবং
বিক্রিয়ার প্রকার শনাক্ত করতে পারব।
৪. রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থের পরিমাণকে লা -শা তেলিয়ারের নীতির আলোকে ব্যাখ্যা করতে পারব।
৫. পরিবর্তন বিশ্লেষন করে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার প্রকার শনাক্ত করতে পারব।
৬. বাস্তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংঘটিত বিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
৭. বাস্তব ক্ষেত্রে সংঘটিত ক্ষতিকর বিক্রিয়াসমূহ নিয়ন্ত্রণ বা রোধের উপায় নির্ধারণ করতে পারব (লোহার তৈরি
জিনিসের মরিচাপড়া রোধের যথাযথ উপায় নির্ধারণ করতে পারব)।
৮. রাসায়নিক বিক্রিয়ার হার ব্যাখ্যা ও সংস্লিষ্ট হারের তুলনা করতে পারব।
৯. বিভিন্ন পদার্থ ব্যবহার করে বিক্রিয়ার গতিবেগ বা হার পরীক্ষা ও তুলনা করতে পারব।
১০. দৈনন্দিন কাজে ধাতব বস্তু ব্যবহারে সচেতনতা প্রদর্শন করব।
১১. অ¤-- ক্ষার প্রশমন বিক্রিয়া এবং অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারব।
১২. পরীক্ষার সাহায্যে বিক্রিয়ার হারের ভিন্নতা প্রদর্শন করতে পারব।

৭.১ পদার্থের পরিবর্তন[edit]

পরিবেশে বিদ্যমান পদার্থগুলো বাহ্যিক তাপ, চাপ ও অন্য পদার্থের সংস্পর্শে পরিবর্তিত হয়। একটি রাসায়নিক পদার্থ এক বা একাধিক মৌলের সমন্বয়ে গঠিত। বিশুদ্ধ পদার্থে মৌলসমূহের একটি নির্দিষ্ট শতকরা সংযুতি থাকে। কখনো কখনো পরিবর্তনের সময় মৌলসমূহের শতকরা সংযুতি অপরিবর্তিত রেখে শুধু পদার্থের ভৌত অবস্থার পরিবর্তন হয়। যেমন, বরফকে বায়ুতে মুক্ত অবস্থায় রেখে দিলে পরিবেশ থেকে তাপ শোষণ করে তরল পানিতে পরিণত হয় এবং তরল পানিকে 100°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে জলীয়বাষ্প উৎপন্ন হয়। বরফ, তরল পানি এবং জলীয়বাষ্পের রাসায়নিক সংকেত <m>H_2O</m>। প্রত্যেকটি উপাদানে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের শতকরা সংযুতি অভিন্ন। পদার্থের এই পরিবর্তনকে ভৌত পরিবর্তন বলে।<br> <m>H_2O_{(s)}</m> ↔ <m>H_2O_{(I)}</m> ↔ <m>H_2O_{(g)}</m><br> একইভাবে মোম ও গালাকে তাপ দিলে এটি গলে তরল অবস্থায় পরিণত হয় এবং তাপ সরিয়ে নিলে দ্রুত কঠিন পদার্থে রূপান্তরিত হয়। কখনো কখনো একটি পদার্থ বাহ্যিক তাপ, চাপ ও অন্য পদার্থের সংস্পর্শে পরিবর্তনের সময় পদার্থে বিদ্যমান মৌলসমূহের শতকরা সংযুতির পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন পদার্থ উৎপন্ন হয়। নতুন পদার্থটি পূর্ব পদার্থের মৌল দ্বারা অথবা কোনো মৌলের বিযোজনের মাধ্যমে অথবা কোনো মৌল সংযোজনের মাধ্যমে গঠিত হতে পারে। পরিবর্তিত পদার্থের ভৌত অবস্থা পূর্ব-পদার্থ থেকে ভিন্ন বা পূব-পদার্থের অনুরূপ হতে পারে। নতুন যৌগে উপাদান মৌল ভিন্ন হওয়ায় মৌলসমূহের শতকরা সংযুতির পরিবর্তন হয়। যেমন, মোমের প্রধান উপাদান বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। মোম জ্বালালে তার কিছু অংশ শুধু ভৌত পরিবর্তনের মাধ্যমে গলে কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হয় এবং ঠাণ্ডা হয়ে পুনরায় কঠিন অবস্থায় পরিণত হয়। একইসাথে মোমের কিছু অংশ অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও জলীয়বাষ্প উৎপন্ন করে। অর্থাৎ মোম জ্বালানোর সময় ভৌত পরিবর্তন এবং রাসায়নিক বিক্রিয়া উভয় পরিবর্তন সংঘটিত হয়। মোমকে জ্বালালে হাইড্রোকার্বনের কার্বন ও হাইড্রোজেন বায়ুর অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও জলীয়বাষ্প উৎপন্ন করে। মোম জ্বালালে যেহেতু নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয় তাই এই পরিবর্তন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন বা রাসায়নিক বিক্রিয়া। রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণুসমূহের মধ্যবর্তী বন্ধন ভেঙে নতুন বন্ধন গঠিত হয়। পরমাণুসমূহের মধ্যবর্তী বন্ধন ভাঙা ও নতুন বন্ধন গঠিত হওয়ায় তাপশক্তির পরিবর্তন হয়। রাসায়নিক বিক্রিয়াটি নিন্মরূপ:<br> <m>C_xH_y</m> + <m> \frac {(x+y)}{2} \times O_2</m> <m> \longrightarrow </m> <m>xCO_2</m> + <m>yH_2O</m> + শক্তি<br> প্রাকৃতিক গ্যাস বা মিথেনকে জ্বালালে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও জলীয়বাষ্প উৎপন্ন করে।<br> এখানে শুধু রাসায়নিক পরিবর্তন সংঘটিত হয়।<br> <m>CH_{4(g)}</m> + <m>2O_{2(g)}</m> <m> \longrightarrow </m> <m>CO_{2(g)}</m> + <m>2H_2O_{(g)}</m><br> চুনাপাথর (ক্যালসিয়াম কার্বনেট; <m>CaCO_3</m>) এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড (<m>CaCI_2</m>) কার্বনডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন করে।<br> <m>CaCO_{3(s)}</m> + <m>2HCI_{(aq)}</m> <m> \longrightarrow </m> <m>CaCI_{2(aq)}</m> + <m>CO_{2(g)}</m> + <m>H_2O_{(I)}</m><br>

কাজ : উপরের প্রক্রিয়াগুলোতে বিভিন্ন পদার্থে মৌলসমূহের শতকরা সংযুতির আলোকে পরিবর্তন সম্পর্কে মতামত দাও।

ভৌত পরিবর্তনে পরিবর্তিত পদার্থকে সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া যায় কিন্তু রাসায়নিক পরিবর্তনে পরিবর্তিত পদার্থকে সম্পূর্ণরূপে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া যায় না।


Share your opinion