Changes

Jump to: navigation, search

রসায়ন ও শক্তি

171 bytes removed, 4 months ago
'''খ. তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া ও তাপহারী বিক্রিয়া'''<br>
এবার উপরের আলোচিত বিষয়বস্তু থেকে বিক্রিয়াকে তাপের ভিত্তিতে ভাগ করি। তাপের পরিবর্তনের ভিত্তিতে রাসায়নিক
বিক্রিয়া দুই প্রকার, যথা : (১) তাপউৎপাদী তাপ উৎপাদী ও (২) তাপহারী বিক্রিয়া ।<br>'''তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া: ''' যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয় তাকে তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া বলে। যেমন: কাঠ, কয়লা বা গ্যাস
পোড়ালে তাপ উৎপন্ন হয়। কাঠ বা কয়লা মূলত কার্বন এবং কার্বনের বিভিন্ন যৌগ, যা দহনের মাধ্যমে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে
বিক্রিয়া করে কার্বন-ডাই-অক্সাইড (ঈঙ২CO2) ও তাপ উৎপন্ন করে। চুন পানিতে দিলে তাপ উৎপন্ন হয়। চুন হলো ক্যালসিয়ামঅক্সাইড (ঈধঙCaO), যা পানির সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড; ঈধCa(ঙঐOH)২ ও 2ও তাপ উৎপন্ন করে।<br>C(s) + ঙ২ O<sub>2</sub>(g) → ঈঙ২ CO<sub>2</sub> (g) + তাপ<br>ঈধঙ CaO (s) + ঐ২ঙ H<sub>2</sub>O (l) → ঈধCa(ঙঐOH)<sub>2</sub> (ধয়aq) + তাপ<br>
এবার তাপশক্তি নির্গত হওয়ার বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা করা যাক। প্রথম ক্ষেত্রে, বিক্রিয়ক কার্বন ও অক্সিজেনের মধ্যে মোট
স্থিত রাসায়নিক শক্তি উৎপাদিত যৌগ কার্বন-ডাই-অক্সাইড মধ্যে স্থিত রাসায়নিক শক্তির চেয়ে বেশি। অনুরূপভাবে,
উৎপাদ ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড-এর মধ্যে স্থিত রাসায়নিক শক্তি বিক্রিয়ক ক্যালসিয়াম অক্সাইড ও পানির মধ্যে মোট
স্থিত রাসায়নিক শক্তির চেয়ে কম। সহজে বলা যায়, বিক্রিয়কের মধ্যে স্থিত মোট রাসায়নিক শক্তি নতুন যৌগ গঠনে
ব্যয় হওয়ার পর অতিরিক্ত অংশ তাপ হিসেবে বের হয়, অর্থাৎ নির্গত তাপশক্তি = উৎপাদ যৌগসমূহের মোট শক্তি (ঊ২E<sub>2</sub>)− বিক্রিয়ক যৌগসমূহের মোট শক্তি (ঊ১E<sub>1</sub>)।<br>১০৮ রসায়ন<br>'''বিক্রিয়া তাপ: ''' কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরিবর্তিত তাপকে বিক্রিয়া তাপ বলে।<br>'''দহন তাপ: ''' এক মোল পরিমাণ পদার্থকে দহন করলে যে তাপের উৎপন্ন হয় তাকে দহন তাপ বলে।<br>'''তাপহারী বিক্রিয়া: ''' যে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার জন্য তাপের শোষণ ঘটে, তাকে তাপহারী বিক্রিয়া বলে।
তাপউৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে আমরা সচরাচর তাপের উদ্ভব প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করি, কিন্তু তাপহারী বিক্রিয়া ক্ষেত্রে খুব
কমই তাপ শোষণের ঘটনা বুঝতে পারি। এবার চল, তাপ শোষণ হয়েছে এমন ঘটনা বুঝবার চেষ্টা করি। ৬০ক্ক60° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় অর্ধেক গ -াস গ্লাস গরম পানি আছে। এর মধ্যে একটুকরা বরফ যোগ কর। নিশ্চয়ই আমরা বুঝতে পারি
যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই বরফটুকরাটি গলবে, আর সাথে সাথে পানির তাপমাত্রাও কমে যাবে। এভাবে সচরাচর আমরা
পানীয়কে ঠাণ্ডা করতে বরফটুকরা ব্যবহার করে থাকি। আমরা উপরে জেনেছি যে, পানি থেকে শক্তি বের করলে পানি
তরল থেকে কঠিনে (বরফে) পরিণত হয়। তাহলে এটা স্পষ্ট যে, গৃহীত শক্তি (তাপ) বরফকে ফেরত দিলে কঠিন বরফ
তরল পানিতে পরিণত হবে। প্রকৃতপক্ষে, গ-াসে গ্যাসে রাখা বরফটুকরাটি গরম পানি থেকে তাপ (শক্তি) গ্রহণ করে পানিতে
পরিণত হয়। তার ফলে গরম পানির তাপমাত্রা কমে যায়। তাহলে বরফটুকরা তার চারপাশ (পরিবেশ) থেকে তাপ শোষণ
করে পানিতে পরিণত হয়। অনুরূপভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার জন্য তাপের শোষণ হতে পারে। এক্ষেত্রেকখনো কখনো রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত করার জন্য ব্যবহৃত পাত্রের গায়ে হাত দিলে ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। আবার
কখনো বাহির থেকে তাপ দেওয়া ছাড়া বিক্রিয়াই হয় না। যেমন: খাবার সোডা ও লেবুর রস বা ভিনেগারের বিক্রিয়ার
সময় তাপের শোষণ ঘটে। খাবার সোডা হলোÑ হলো- সোডিয়াম -বাই -কাবর্ নেট কাবর্নেট (ঘধঐঈঙNaHCO<sub>3</sub>)। অপরদিকে লেবুর রসেসাইট্রিক এসিড ও ভিনেগারে এসিটিক এসিড থাকে। সোডিয়াম-বাই-কাবর্ নেট কাবর্নেট এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় কার্বন-ডাই -অক্সাইড, লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াটি সংঘটিত হওয়ার সময় দ্রবণ থেকে তাপ শোষণ করে, ফলে আমরা
দ্রবণটি ঠাণ্ডা হতে দেখি।
ঘধঐঈঙNaHCO<sub>3</sub>(ধয়aq) + ঈঐ৩ঈঙঙঐCH<sub>3</sub>COOH(ধয়aq) + তাপ (দ্রবণ থেকে শোষিত)ঈঐ৩ঈঙঙ¯ঘধ→CH<sub>3</sub>COO<sup>-</sup>Na<sup>+ (ধয়) </sup> + ঈঙ২CO<sub>2</sub>(g) + ঐ২ঙ (ষ)H<sub>2</sub>O<br>অথবা<br>ঘধঐঈঙNaHCO<sub>3</sub>(ধয়aq) + H<sup>+</sup>(ধয়aq) (সাইট্রিক এসিড) + তাপ (দ্রবণ থেকে শোষিত)ঘধ→Na<sup>+</sup>-লবণ (সোডিয়াম সাইট্রেট) (ধয়aq) + ঈঙ২CO<sub>2</sub>(g) + ঐ২ঙ H<sub>2</sub>O (l)<br>
চিত্র-৮.১: তাপ-উৎপাদী বিক্রিয়া।
তাপ
রাসায়নিক পদার্থ
চিত্র-৮.২:তাপহারী বিক্রিয়া।
তাপ<br>রসায়ন ১১৩<br>
সালফার ও নাইট্রোজেন মৌলযুক্ত যৌগ থাকে, তাহলে জ্বালানি পোড়ানোর সময় পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
সালফার ও নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড উৎপন্ন হয়। সালফার-ডাই-অক্সাইড বায়ুর জলীয়বাষ্পের সাথে যুক্ত হয়ে
সালফিউরিক এসিড তৈরি করে, যা এসিডবৃষ্টির (ধপরফ ৎধরহacid rain) সৃষ্টি করে। আমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারি যে,
এসিডবৃষ্টি পরিবেশের গাছপালা ও জীবজন্তুর টিকে থাকার জন্য অন্তরায়। এছাড়াও যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়ায়
কার্বন -মনো -অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড ও অব্যবহৃত গ্যাসীয় জ্বালানি (মিথেন) বায়ুতে মিশে সূর্যের আলোর
উপস্থিতিতে নানা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাসের ধোঁয়ার সৃষ্টি করে। একে ‘ফটোক্যামিক্যাল
ধোঁয়া’ (ঢ়যড়ঃড়পযবসরপধষ ংসড়মphotochemical smog) বলে। ফটোক্যামিক্যাল ধোঁয়ার উপাদান গ্যাসসমূহ বায়ুমণ্ডলের ওজোন(O3O<sub>3</sub>) স্তরের মারাত্মক ক্ষয়সাধন করে। অতএব স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় বিশুদ্ধ জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত
করা অত্যন্ত জরুরি।
৮.৬ রাসায়নিক শক্তি ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব
নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তি থেকে ব্যবহারযোগ্য শক্তির উৎপাদনের মূলনীতি ভিন্ন। প্রকৃতপক্ষে, সিংহভাগ
শক্তিই জ্বালানিকে পুড়িয়েই উৎপাদন করা হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে হাজার হাজার টন জ্বালানি পোড়ানোর ফলে উদ্ভূত
সমতুল্য পরিমাণ ঈঙ২ CO<sub>2</sub> গ্যাস ও অন্যান্য গ্যাসসমূহ বিশেষ করে ঈঙCO, ঝঙ২SO<sub>2</sub>, ঘঙ NO ও ধোঁয়ার সাথে বের হওয়া অদহনীয়জ্বালানি কোথায় যাচ্ছে? নিশ্চয়ই এরা বাতাসের সাথে মিশে যাচ্ছে। উলেখ্য যে, সালোকসংশ্লেষণ বিক্রিয়ায় বায়ুতে মিশেযাওয়া ঈঙCO<sub>2</sub> গ্যাস ব্যবহৃত হয় বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে একদিকে আমরা উদ্ভিদকুলের নিধন করছি, অন্যদিকে
আমাদের অত্যাধুনিক জীবনব্যবস্থার চাহিদা মেটানোর জন্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করছি। এতে করে দিনে দিনে
বায়ুমণ্ডলে CO2 CO<sub>2</sub> -এ র পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। যদিও CO2 CO<sub>2</sub> বায়ুর অন্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করেনা, তবে CO2 CO<sub>2</sub> গ্যাসের তাপ ধারণক্ষমতা বেশি, অর্থাৎ CO2 CO<sub>2</sub> তাপ শোষণ করে তা ধরে রাখতে পারে (ঃৎধঢ়ঢ়রহম ড়ভযবধঃtrapping of heat) । আবার CO2 CO<sub>2</sub> গ্যাস ওজনে ভারী হওয়ায় পৃথিবীপৃষ্ঠের কাছাকাছি অবস্থান করে। এতে করে দিনে দিনেপৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে, যাকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (মষড়নধষ ধিৎসরহমglobal worming) বলা হয়। CO2 CO<sub>2</sub> গ্যাসের এ ধরনেরতাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনা ‘গ্রিন হাউজ প্রভাব’ (মৎববহযড়ঁংব বভভবপঃgreenhouse effect) বলে পরিচিত এবং CO2 CO<sub>2</sub> -কে গ্রিনহাউজ গ্যাস
বলা হয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মেরুঅঞ্চলের বরফ গলে পানিতে পরিণত হয়ে অনাকাক্সিক্ষত বন্যার সৃষ্টি করছে
(চিত্র -৮.৮)। অন্যদিকে, জ্বালানি পোড়ানোর ফলে উদ্ভূত অন্যান্য গ্যাসসমূহ নানারকম রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে বায়ুকে
দূষিত করছে এবং বায়ুতে বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট করে এসিডবৃষ্টি ও ফটোক্যামিক্যাল ধোঁয়ার সৃষ্টি করছে।
তাছাড়াও এসব গ্যাস ওজোনস্তরের সাথে সরাসরি বিক্রিয়া করে এর পুরুত্ব কমিয়ে দিচ্ছে বা ওজোনস্তরে ক্ষতের(যড়ষবhole) সৃষ্টি করছে। আসলে ওজোনস্তর সূর্যের আলোর ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে সূর্যের আলোতে উপস্থিতঅতিবেগুনি রশ্মি (ঁষঃৎধারড়ষবঃ ৎধুultraviolet ray) পৃথিবীতে আসতে বাধা প্রদান করে। পরবর্তী শ্রেণিতে আমরা এদের প্রভাবে কীকী হতে পারে তার বিস্তারিত জানব।<br>১১৪ রসায়ন<br>
চিত্র-৮.৮: কারখানা থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ (বামে) ও বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের
বরফ গলে পানি হচ্ছে (ডানে)।<Br>
৮.৭ ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার
ইথানল, যার অপর নাম ইথাইল অ্যালকোহলÑ অ্যালকোহল- এটি একটি দাহ্য তরল রাসায়নিক পদার্থ। খনিজ জ্বালানি যেমনÑযেমন- কেরোসিন, পেট্রোল, ডিজেল প্রভৃতির মতো ইথানলকে পোড়ালে তাপ উৎপন্ন হয়। তাহলে খনিজ জ্বালানির মতো
ইথানলকে তাপ ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে কলকারখানা, গাড়ি, বিমান, জাহাজ প্রভৃতি চালানো যেতে
পারে। ব্রাজিল, উত্তর আমেরিকাসহ উন্নত দেশসমূহে ইথানলকে পেট্রোলিয়াম (খনিজ জ্বালানি) -এর সাথে মিশ্রিত করে
জ্বালানি ব্যবহার করে রাস্তায় চলাচল করছে। ব্রাজিলের সরকার খনিজ জ্বালানির সাথে শতকরা ২৫ ভাগ ইথালন মিশ্রিত
করে ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করেছে। এছাড়াও আধুনিককালের ও পরবর্তী প্রজন্মের ব্যবহারযোগ্য শক্তি উৎপাদনের
প্রযুক্তি বলে খ্যাত ‘ফুয়েল সেল’ (Fuel fuel cell)-এর জ্বালানি হিসেবে অ্যালকোহল (মিথানল ও ইথানল) ব্যবহৃত হচ্ছে।
নিশ্চয়ই এই প্রশ্নটা মনে জাগতে পারে, এত সব জ্বালানি থাকতে ইথানলের ব্যবহার দরকার কেন? বলা হচ্ছে যে, খনিজ
জ্বালানির মজুদ একসময় শেষ হয়ে যাবে। তাহলে চিন্তা করা প্রয়োজন আমরা কীভাবে শক্তির উৎপাদন করব, কীভাবে
খনিজ জ্বালানির মজুদের উপর চাপ কম পড়বে।
মজার ব্যাপার হলোঃ ইথানল হলো একটি জৈব রাসায়নিক যৌগ, যা শ্বেতসার জাতীয় শস্য দানা যেমনঃ আলু, ভুট্টা,
ইক্ষু প্রভৃতি থেকে গাজন প্রক্রিয়ার (ভবৎসবহঃধঃরড়হ ৎবধপঃরড়হfermentation reaction) মাধ্যমে উৎপন্ন করা যায়। এজন্য ইথানলকে জৈবজ্বালানি (Biobio-fuel) বলা হয়। অধুনা নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সেলুলোজ (উদ্ভিদের দেহের উপাদান) থেকে ইথানল
উৎপাদন করাও সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, কৃষিকাজের মাধ্যমে শস্য ও উদ্ভিদ তথা ইথানলের নিয়মিতভাবে উৎপাদন
নিশ্চিত করা সম্ভব। অতএব খনিজ জ্বালানির মতো ইথানল ফুরাবার ভয় নেই। তাহলে, ইথানলের বাণিজ্যিক উৎপাদন ও
বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের প্রযুক্তি উদ্ভাবন একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।<br>'''৮.৮ তড়িৎ রাসায়নিক কোষ (Electrochemical cell)'''<br>
উপরে আমরা জানলাম যে, জ্বালানিকে পুড়িয়ে রাসায়নিক শক্তিকে তাপশক্তিতে পরিণত করে বিভিন্নভাবে কাজে লাগানো
যায়। এখানে আমরা শিখব কীভাবে রাসায়নিক শক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তরিত না করে সরাসরি বিদ্যুৎশক্তিতে পরিণত
করা যায় ও পাশাপাশি কীভাবে বিদ্যুৎশক্তিকে ব্যবহার করে রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। গ্যালভানি (খঁরমরLuigi <br>রসায়ন ১১৫<br>এধষাধহরGalvani) ও ভোলটা (অষবংংধহফৎড় ঠড়ষঃধAlessandro Volta) প্রথম রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম
হয়েছিলেন। গ্যালভানি ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে ও ভোলটা ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে আলাদাভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে,
স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটা জারণ-বিজারণ বিি ক্রয়ার বিক্রিয়ার (ৎবফড়ী ৎবধপঃরড়হredox reaction) মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব। মূলত তাদেরআবিষ্কারের ফলেই আজ আমরা ব্যাটারি পেয়েছি। তাহলে, গ্যালভানিক কোষ (Galvanic cell) (যা ভোলটায়িক কোষ
(Voltaic cell) বলেও পরিচিত) হলো এক ধরনের তড়িৎ রাসায়নিক কোষ (Electrochemical cell) যার মাধ্যমে
রাসায়নিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি তৈরি করা যায়। অপরদিকে বিদ্যুৎশক্তি ব্যবহার করে তড়িৎ রাসায়নিক কোষের
মাধ্যমে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত করা যায়। একে তড়িৎ বিশ্লেষণ (Electrolysiselectrolysis) বলা হয়। যে কোষে তড়িৎবিশ্লেষণ করা হয় তাকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ (Electrolytic electrolytic cell) বলে। তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বিভিন্ন ক্ষুদ্রাংশ,যেমন তড়িৎদ্বার (Electrodeelectrode), লবণ- সেতু (ংধষঃ নৎরমবsalt bridge) ও তড়িৎ বিশে -ষ্য বিশ্লেষ্য দ্রবণ নিয়ে গঠিত। নি¤েœ নিম্নে তড়িৎ রাসায়নিককোষের বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনা করা হলো।<br>'''৮.৯ বিদ্যুৎ পরিবাহী ও তড়িৎদ্বার'''<br>'''পরিবাহী: ''' যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে, তাদেরকে বিদ্যুৎ পরিবাহী (Conductorconductor) বলে। আরযাদের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে না, তাদেরকে অপরিবাহী (Insulatorinsulator) বলে। ধাতু, কার্বন, গ্রাফাইট,
গলিত লবণ ও এসিড, ক্ষার ও লবণের দ্রবণ প্রভৃতি বিদ্যুৎ পরিবাহী হিসেবে কাজ করে। বিদ্যুৎ পরিবহনের কৌশলের
(সবপযধহরংসmechanism) উপর ভিত্তি করে পরিবাহীকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা:- (১) ইলেকট্রনিক (বষবপঃৎড়হরপelectronic) ও (২)তড়িৎ বিশ্লেষ্য (বষবপঃৎড়ষুঃরপelectrolytic) পরিবাহী। যে সকল পরিবাহী ইলেকট্রন প্রবাহের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে তাকেইলেকট্রনিক পরিবাহী বলে। যেমনঃ - সকল ধাতু ও গ্রাফাইট। বিদ্যুৎপ্রবাহ যদি পরিবাহীর আয়ন দ্বারা সাধিত হয়, ঐসবপরিবাহীকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী বলে। যেমন যেমনঃ-গলিত লবণ, এসিড, ক্ষার ও লবণের দ্রবণ।<br>'''তড়িৎদ্বার: ''' তড়িৎদ্বার হলো ধাতব বা অধাতব বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থ। এদেরকে ইলেকট্রনিক পরিবাহী বলা হয়। তড়িৎদ্বার
তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও দ্রবণের (আয়নিক পরিবাহী) মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহের যোগসূত্র রক্ষা
করে। তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনে দুটি তড়িৎদ্বার প্রয়োজন। একটিকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং অপরটিকে ক্যাথোড
তড়িৎদ্বার বলে।<br>অ্যানোড তড়িৎদ্বারেঃ - ১. জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় ২. দ্রবণের অ্যানায়নের ইলেকট্রন ধাতব দণ্ডে (অ্যানোড)
স্থানান্তরিত হয়।
ক্যাথোড তড়িৎদ্বারেঃ - ১. বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় ২. দ্রবণের ক্যাটায়ন কর্তৃক ধাতব দণ্ড (ক্যাথোড) থেকে
ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষে অ্যানোড ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার হিসেবে ধাতব দণ্ড বা গ্রাফাইট দণ্ড ব্যবহার করা হয়। এই কোষে
ধনাত্মক প্রান্ত যে ধাতব দণ্ডের সাথে যুক্ত তা অ্যানোড হিসেবে এবং ঋণাত্মক প্রান্ত যে ধাতব দণ্ডের সাথে যুক্ত তা
ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
গ্যালভানিক কোষে অ্যানোড ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার গঠনের পদ্ধতি তড়িৎ বিশে -ষ্য বিশ্লেষ্য কোষ থেকে পৃথক। একটি ধাতব<br>১১৬ রসায়নঅম(ং) অম+(ধয়) + ব¯<br>দণ্ডকে ঐ ধাতুর তড়িৎবিশে -ষ্য তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণের মধ্যে স্থাপন করে তড়িৎদ্বার গঠন করা হয়। গ্যালভানিক কোষের অ্যানোড ওক্যাথোড হিসেবে ভিন্ন ধাতব দণ্ডকে ব্যবহার করা হয় (একই ধাতব দণ্ডকে ভিন্ন ঘনমাত্রার তড়িৎ বিশে-ষ্যের বিশ্লেষ্যের মধ্যেস্থাপন করে অ্যানোড ও ক্যাথোড গঠন করা যায়। এই সম্পর্কে পরবর্তী শ্রেণিতে জানবে)। গ্যালভানিক কোষেরঅ্যানোড ও ক্যাথোড নির্ধারিত হয় ধাতুর সক্রিয়তা দ্বারা। তড়িৎদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত ধাতব দণ্ডদ্বয়ের মধ্যে অধিক সক্রিয়ধাতু অ্যানোড এবং কম সক্রিয় ধাতু ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।<br>'''ধাতু/ধাতব আয়ন তড়িৎদ্বার'''<br>
বিভিন্ন প্রকারের তড়িৎদ্বার রয়েছে। তন্মধ্যে ধাতু/ধাতব আয়ন তড়িৎদ্বার অন্যতম। কোনো একটি ধাতু যদি উক্ত ধাতুর
লবণের দ্রবণে ডুবানো থাকে, তাহলে তাকে ধাতু/ধাতু আয়ন তড়িৎদ্বার বলেঃ যেমন: কপার ধাতুর দণ্ড বা ধাতব পাত
কপার সালফেটের জলীয় দ্রবণে ডুবানো থাকে, তাহলে তাকে কপার/কপার(ওওII) বা ঈঁ।ঈঁ২Cu|Cu<sup>2+</sup>(ধয়aq) তড়িৎদ্বার বলে।অনুরূপভাবে, অম।অমAg|Ag<sup>+</sup>(ধয়aq) এবং তহ।তহ২Zn|Zn<sup>2+(ধয়) উলে-খযোগ্য </sup>উল্লেখযোগ্য ধাতু/ধাতব আয়ন তড়িৎদ্বারের উদাহরণ।<br>'''তড়িৎদ্বার বিক্রিয়া'''<br>উপরে আমরা ধাতু/ধাতব আয়ন তড়িৎদ্বার সম্পর্কে জেনেছি। অম।অমAg|Ag<sup>+(ধয়) </sup> তড়িৎদ্বারটির বিক্রিয়াকে আমরানিম্নোক্তভাবে লিখতে পারি।<br>Ag(s)→ Ag<sup>+</sup>+ e<sup>-</sup><br>Ag<sup>+</sup>+ e<sup>-</sup>→Ag(s)<br>
ধাতু/ধাতব আয়ন তড়িৎদ্বার বিক্রিয়া উভমুখী প্রকৃতির হয়ে থাকে। অর্থাৎ তড়িৎদ্বার বিক্রিয়ায় ধাতব অম (ং) ইলেকট্রন
ত্যাগ করে অম+(ধয়) আয়নে পরিণত হয়ে দ্রবণে দ্রবীভূত হয়। অন্যথায় দ্রবণের অম+ (ধয়) আয়নকে যদি একটি
তহঝঙ৪ দ্রবণ ঈঁঝঙ৪ দ্রবণ
লবণ সেতু
(ংধষঃ নৎরফমবsalt bridge)
কপার (ঈঁ)
ক্যাথোড
Share your opinion